রাজ্যের সরকারি কমিটিগুলিতে তৃণমূল সমর্থিত অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপার আধিপত্য নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ আংশিক সত্য বলেই স্বীকার করলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তবে, তিনি এটাকে অন্যায় বলে মনে করেন না। রবিবার ওয়েবকুপার এক সভায় গিয়ে তিনি স্পষ্ট বলেন, সরকারের সঙ্গে থাকা সংগঠনের সদস্যদের তিনি সরকারি কমিটিতে দেখতে চান।
বিরোধীদের অভিযোগ বরাবরই ছিল যে, তৃণমূল সমর্থিত অধ্যাপকরা বিশেষ সুবিধা পান এবং সরকারি কমিটিগুলিতে তাদেরই স্থান দেওয়া হয়। সেই অভিযোগের উত্তর দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী অকপট স্বীকার করলেন, “আমি এই সংগঠনের সভাপতি। আমি সরাসরি রাজনৈতিক লোক। তাই আমার কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি কোনও কমিটি গঠন হয়, আমি চাইব আমার সংগঠনের লোকজনই সেখানে থাক। তৃণমূল সমর্থক বলেই কেউ অপাংক্তেয় হতে পারেন না।
তবে তিনি জানান, শুধুমাত্র দলীয় পরিচয় নয়, উপযুক্ত শিক্ষাবিদদেরও সরকারি কমিটিগুলিতে নেওয়া হচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি বলেন, আমরা কি বাইরের শিক্ষাবিদ নিচ্ছি না? প্রচুর শিক্ষাবিদ রয়েছেন, এমনকি উপাচার্যও এসেছেন বাইরে থেকে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়েবকুপার গুরুত্ব আরও বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রতিটি জেলায় এই সংগঠনের ইউনিট হেড তৈরি হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়েবকুপার উপস্থিতি দৃশ্যমান হয়েছে। অধ্যাপক এবং শিক্ষক মহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজের পক্ষে সমর্থন তৈরি করাই এই সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।
তবে বিরোধীরা একে তৃণমূল সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রে ‘একচেটিয়া দখলদারি’ বলেই আক্রমণ শানাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের পর তাদের দাবি আরও জোরদার হয়েছে। এখন দেখার, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এই ইস্যু কতটা রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ায়।
