ক্ষমতায় এসেই বেজিংয়ের পণ্যে কোপ দিতে বা তা থেকে আরও লাভ ঘরে তুলতে চিনা পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।এমনিতেই সামরিক দিক থেকে প্রভূত ক্ষমতাধর এই দুই দেশ বাণিজ্যেও যুযুধান দুই পক্ষ। কাজেই ক্ষমতায় এসেই ট্রাম্পের এই ট্যাক্স নীতি কার্যকর করাটা ভালভাবে নেয় নি বেজিং। বিশ্বের সর্ববৃহৎ দুই অর্থনীতির দেশ আমেরিকা ও চিন, পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ নিয়ে এ দুই দেশ এখন বৃহৎ বাণিজ্যযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। তাই এবার ট্রাম্পের এই শুল্ক সিস্টেমের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে লড়াই করতে ভারতকেও পাশে চাইল চিন। চিনের চলমান সংসদীয় অধিবেশনে চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই জানিয়েছেন যে দুই দেশ যদি আরও বেঁধে বেঁধে থাকে তাহলে তাঁর সুফল মিলবে।ভারত এবং চিনের শক্তির কথা বলতে গিয়ে ‘হাতি’ এবং ‘ড্রাগন’-এর উপমা ব্যবহার করেছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী। তিনি বলেছেন তিনি বলেন, ‘ড্রাগন এবং হাতি একসঙ্গে নাচবে। এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। একে অপরকে হারানোর চেষ্টা না করে একে অপরকে সমর্থন করতে হবে আমাদের। একে অপরের বিরুদ্ধে ঢাল তুলে দাঁড়ানোর পরিবর্তে উভয় জাতির মৌলিক স্বার্থে সহযোগিতা জোরদার করা উচিত আমাদের।’
ভারত-চিন সীমান্ত জটিলতা আজকের নয়।পূর্ব লাদাখের গালওয়ান পর্বের পর ২০২৪ সালের ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদী রাশিয়ায় যোগ দিতে যাওয়ার আগেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ঘোষণা করে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারতের টহলের অধিকার মেনে নিয়েছে চিন। এই আবহে কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে দু-দেশের সম্পর্ক।এমন পরিস্থিতিতেই এশিয়ার আর এক বৃহৎ শক্তির হাত ধরতে চাইল চিন। বেজিং চাইছে আজ এমন বাণিজ্য যুদ্ধের সময়ে একে অপরকে হারানোর চেষ্টা না করে একে অপরকে সমর্থন করতে হবে আমাদের। চিনের বিদেশমন্ত্রীর দাবি একে অপরের বিরুদ্ধে ঢাল তুলে দাঁড়ানোর পরিবর্তে উভয়ের মৌলিক স্বার্থে সহযোগিতা জোরদার করা উচিত।
ট্রাম্প প্রশাসনের চিনা পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ নিয়ে হার না মেনে লড়াইয়ের ময়দানেই নামতে চাইছে বেজিং।তারা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ চায় তবে শুল্ক যুদ্ধ,বাণিজ্য যুদ্ধ বা অন্য যেকোনও ধরনের যুদ্ধ হোক চিন শেষ পর্যন্ত আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ বন্ধু হলেও শুল্ক ক্ষেত্রে দিল্লিকেও ছাড় দিতে নারাজ ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই আবহে শুল্কের পাল্টা শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন ট্রাম্প। আগামী ২ এপ্রিল থেকে ভারতের উপরেও ট্যাক্স চাপানোর ঘোষণা করে দিয়েছেন মার্কিন প্রসিডেন্ট।আর এহেন পরিস্থিতিতেই বাণিজ্য যুদ্ধে ভারতকে পাশে চাইছে চিন।
ঘটনাচক্রে এরকম একটা সংকটের সময়ে চিনের ভারতকে পাশে পেতে চাওয়াকে অনেকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে । বেজিংয়ের হিসেবে ভারত ও চিন এশিয়ার দুই বড় শক্তি এক হলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক থেকে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল হয়ে দাঁড়াবে। দু-দেশের সমস্যা মেটাতে রাশিয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন শি জিনপিং। দুই দেশ নিজেদের তরফ থেকে যৌথ পদক্ষেপও নিয়েছে। এমন অবস্থায় শুল্ক যুদ্ধের লড়াইয়ে চিনের পাশে যদি সত্যি ভারত দাঁড়ায় তাহলে বিশ্ব শক্তির ভরকেন্দ্রও একটু অন্যভাবে মাপা হবে।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
