রাজস্থানের ঢোলপুরে মেয়ের বিয়ে নিয়ে উৎসাহের কমতি ছিল না গিরিশ কুমারের। বড় আয়োজন, সাজসজ্জা, আতিথেয়তায় কোনো খামতি রাখেননি তিনি। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাই আনন্দে মেতে উঠেছিলেন। বিয়ে ঘিরে দুই পরিবারেই ছিল উৎসবের আবহ। আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর নতুন সম্পর্কের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছিল চারপাশ। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের উপস্থিতিতে হাসি-আড্ডার মধ্য দিয়ে সমস্ত রীতি-নীতি মেনেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তবে যতটা ভালো ছিল বিয়ের আয়োজন, ততটাই অপ্রত্যাশিত ছিল এর পরবর্তী ঘটনা।
নবদম্পতির জন্য আয়োজনের কোনো কমতি ছিল না, দুই পরিবারই আনন্দে মেতে উঠেছিল। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা, অতিথি আপ্যায়ন, জমজমাট উৎসব—সবকিছু নিখুঁতভাবেই চলছিল। কিন্তু বিদায়ের সময় যেন পুরো আবহ বদলে গেল! আচমকাই কনে দীপিকা সবার সামনে জানিয়ে দিলেন, তিনি এই বিয়ে আর চালিয়ে যেতে চান না। তাঁর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে স্তম্ভিত হয়ে যায় দুই পরিবারসহ উপস্থিত অতিথিরা! । সিঁদুর পরানোর সময় কনে লক্ষ্য করেন, বরের হাত অনবরত কাঁপছে! মুহূর্তেই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে—এ কি স্বাভাবিক, নাকি কোনো গুরুতর শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত? সংশয় দানা বাঁধতেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, এই ঝুঁকি নিয়ে বৈবাহিক জীবন শুরু করা সম্ভব নয়।
দীপিকার এই দাবিতে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তপ্ত আলোচনা শুরু হয়। বরের পরিবারের দাবি, বিষয়টি ততটা গুরুতর নয়, বর সম্পূর্ণ সুস্থ এবং এটি নিছক এক মুহূর্তের ঘটনা। কিন্তু কনে নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য—সম্পর্কের ভিত্তি বিশ্বাস, আর সন্দেহ নিয়েই যদি দাম্পত্য জীবন শুরু হয়, তবে ভবিষ্যতে তা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। পরিবারের সদস্যরা বহুবার বুঝিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও দীপিকা নিজের মত বদলাতে রাজি হননি।
অবশেষে, কোনো উপায় না দেখে বরের পরিবার নববধূকে ছাড়াই বাড়ি ফেরে। প্রদীপ একটি সরকারি স্কুলে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক হিসেবে কর্মরত, আর দীপিকা বিএড শেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে এগোচ্ছিলেন। আকস্মিক এই ঘটনার পর উভয় পরিবারই অস্বস্তিতে পড়েছে। বিয়ে ভাঙার পর কী হবে তাঁদের ভবিষ্যৎ—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দুই পক্ষের আলোচনায়। তবে দীপিকার সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে না। স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে—শেষমেশ এই সম্পর্ক নতুন করে গড়ে উঠবে, নাকি এই ঘটনার মাধ্যমেই সবকিছু চিরতরে শেষ হয়ে গেল?
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
