দীর্ঘ ন’মাস পর অবশেষে ঘরে ফেরার পালা শুরু হলো। মহাকাশে আটকে পড়া সুনীতা উইলিয়ামস এবং তাঁর সহযাত্রী ব্যারি বুচ উইলমোরকে পৃথিবীতে ফেরাতে রওনা দিল মহাকাশযান। ইলন মাস্কের স্পেস এক্স সুনীতা এবং ব্যারিকে মহাকাশ থেকে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পেয়েছে। সেই মতো শনিবার সকালে মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দিল তাদের ক্রিউ টেন মহাকাশযান। সব ঠিক থাকলে বুধবার পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারেন সুনীতা ও ব্যারি। আর এই দুজনের পৃথিবীতে ফিরে আসা নিয়ে আবার প্রতীক্ষার শুরু হয়েছে। যদিও স্পেস এক্স এর এই ক্রিউ টেন রকেটটি যদিও যাত্রীশূন্য অবস্থায় রওনা দেয়নি মহাকাশে। মহাকাশযানটিতে চেপে পাড়ি দিয়েছেন চার মহাকাশযারীও। তাঁরা আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে পৌঁছে মহাকাশচারীদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেবেন এই দুজনকে। তাঁরা দুজন পৃথিবীতে ফিরে আসবেন সুনীতা এবং ব্যারি। চলতি সপ্তাহের গোড়াতেই মহাকাশযানটির রওনা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে অভিযান পিছিয়ে যায় এই যাত্রা। অবশেষে শনিবার সকালে রওনা দিল উদ্ধারকারী মহাকাশযানটি। সুনীতা ও ব্যারি আগামী বুধবার, ১৯ মার্চ আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন থেকে পৃথিবীতে ফিরতে পারেন। আমেরিকার ফ্লোরিডা উপকূলে চার মহাকাশচারীকে নিয়ে নামার কথা সেটির।২০২৪ সালের জুন মাসে আট দিনের অভিযানে মহাকাশে রওনা দেন সুনীতা এবং ব্যারি। কিন্তু গোড়া থেকেই তাঁদের অভিযান ঘিরে একের পর এক বিপত্তি দেখা দেয়। যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে অভিযান পিছিয়ে যায় বার বার। উড়ানের পর মহাকাশযান থেকে তরল চুঁইয়ে পড়ার খবর আসে। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে মহাকাশযানটিকে নোঙর করানো গেলেও, ত্রুটি-বিচ্যুতি এড়ানো যায়নি। তাই ত্রুটিপূর্ণ মহাকাশযানে চাপিয়ে সুনীতা এবং ব্যারিকে ফেরানোর ঝুঁকি নেয়নি NASA. মহাকাশযানটিকে পৃথক ভাবে ফিরিয়ে আনা হয় পৃথিবীতে। কিন্তু সুনীতা এবং ব্যারি আটকে পড়েন মহাকাশে। সেই থেকে সুনীতা এবং ব্যারিকে পৃথিবীতে ফেরানোর উদ্যোগ চলছিল অনেকদিন ধরেই। কিন্তু তাতেও পর পর বাধা আসে। ঘোষণা হয়েও বার বার পিছিয়ে যায় পৃথিবীতে তাঁদের প্রত্যাবর্তন এর দিন। শেষ পর্যন্ত শনিবার তাঁদের ফেরানোর জন্য রওনা দিল মহাকাশযান। ইতিমধ্যেই মহাকাশযানে প্রায় ন’মাস কাটিয়ে ফেলেছেন সুনীতা এবং ব্যারি। আর এখন শুধুই কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা।তারপর দুজনেই বিশ্বের এই মহাকাশ গবেষণায় ইতিহাস সৃষ্টি করে পৃথিবীর মাটিতে ফিরে আসবেন। যার দিকে তাকিয়ে এখন গোটা বিশ্ব।
