এই বছর রামনবমী উৎসব পালন রাজ্যে হবে জোর কদমে। আর এই উপলক্ষে কোমর বেঁধে নামছে বিজেপি,আর এস এস ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। কিন্তু সেই উৎসব পালন নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিধিনিষেধ। এই প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্যসভার সংসদ শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বিজেপি তো রামনবমীর মিছিল করতে নামছে না, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ স্বতস্ফূর্ত হয়ে এই মিছিল করছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। রামের মিছিল এখানে হবে না তো কি চীনে গিয়ে হবে নাকি। এতো আশ্চর্য্য বিষয়। এখন ওরা বলছে এখানে তাজিয়া বের হতে পারবে কিন্তু রামনবমীর মিছিল একদম বের হবে না। এই বিভাজনের রাজনীতি যে তৃণমূল কংগ্রেস করছে এটা করে কোনোও লাভ হবে না তৃণমূলের। শুধু হিন্দু বিরোধিতাই যে একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষেতা এটা মনে হয় আর পশ্চিমবঙ্গে কাজ করবে না।
জয় শ্রী রাম ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত হবার আগে বা রামনবমী পালনের আগে থেকেই ক্রমেই এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহাওয়া কেমন যেন উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে রাজ্যে জুড়ে। যে রামনবমী হলো অযোধ্যার রাজা দশরথ ও রাণী কৌশল্যার সন্তান রামের জন্মদিন পালন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত একটি হিন্দু উৎসব। রাম বিষ্ণুর সপ্তম অবতার। ভগবান বিষ্ণুর মানবীয় রূপের প্রাচীনতম অবতার। রাম নবমী হলো হিন্দুদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উৎসব। যে উৎসব পালন নিয়ে প্রতি বছর এই মা মাটি মানুষের সরকার নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে। আর বিজেপি নেতারা সেই বাধাকে উপেক্ষা করে রাম এর জন্মদিনে মিছিল করেন। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এর বক্তব্য হলো, এই রামনবমী এখন আর বিজেপি ও আর এস এস এর কোনও অনুষ্ঠান নয়। এই রামনবমী এখন হিন্দু বাঙালির সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। অন্ততঃ পক্ষে ২০০০ স্থানে হবে এই রামনবমী। কলকাতা পুলিশের পুলিশ কমিশনার ভয় দেখাতে চাইছেন সনাতনীদের। কিন্তু কোথাও কোনো অশান্তি হবে না। হিন্দুরা শান্তিপ্রিয় মানুষ। যদি অশান্তি হয় তাহলে সেটা পরিকল্পিত ভাবে করা হবে যা দোলে, দুর্গাপুজোয় করা হয়েছে। আমরা এই মিছিল করবো সনাতনী হিন্দুরা এই মিছিল করবে। এই নিয়ে কোনোও প্রশ্ন নেই। আর ঠিক এইভাবেই প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে মিছিল করার কথা জানালেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। আর এতেই তাল ঠুকতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই বিজেপি নেতারা।তাদের মতে এইভাবে রাজ্যে সানাতনীদের মিছিলকে আটকানো যাবে না।
এই প্রসঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এর দক্ষিণ বঙ্গ সম্পাদক অমিয় সরকার বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এই বছরেও সারা দেশ ব্যাপী রাম মহোত্সব হবে। ধুমধাম করে হবে এই উৎসব। এইবছর পশ্চিমবঙ্গে বড়ো শোভাযাত্রা দু হাজার স্থানে হবে। আর গ্রামে গ্রামে যে রামমহোৎসব হবে প্রায় লক্ষাধিক গ্রামে হবে। প্রায় এক কোটি মানুষ জড়ো হবেন এই বার। এই ব্যাপারে প্রশাসনের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এটি খুব দুঃখজনক, প্রশাসন রামনবমীর আগে থেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। সেটা তাঁরা খোঁজ খবর নিক ও ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। অন্য দিকে পরমাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, যেমন আজান হবে তেমন হরিনাম হবে। এটাই তো আমাদের এই রাজ্যের সুন্দর রূপ। এই রাজ্যে দুর্গাপূজা সব থেকে বেশি হয়। তাহলে এই ভাবে বিভাজনের সৃষ্টি করা কেনো। নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান এটাই তো আমাদের দেশের সংস্কৃতি। তাহলে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নানা সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠান নিয়ে এত বাছবিচার করে বিধিনিষেধ কেনো। যে যার মতো ধর্ম পালন করবে।
আর এই ভাবেই এপ্রিল মাসের ছয় তারিখে রামনবমীর আগেই তাপ উত্তাপ বাড়তে চলেছে রাজ্যে এই বছরও। কিন্তু যাঁর জন্মদিন পালন নিয়ে এত হৈ চৈ আর হুল্লোড় প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের এই উৎসব পালন উপলক্ষে এত কঠোর অবস্থান নেওয়া রাজ্যে সরকারের। পুলিশ প্রশাসনের কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ। কারণ একটাই রাজ্যে যাতে রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠা না হয় কিছুতেই। তাহলেই তো সর্বনাশ মা মাটি মানুষের এই সরকারের। যে কোনও উপায়ে রাম জন্মদিনের দিন মিছিল আটকে রাম রথকে আটকে দিতে চায় মা মাটি মানুষের এই সরকার। এখন দেখার বিষয় এটাই প্রভু শ্রী শ্রী রামকে আটকানো যাবে এইভাবে। নাকি প্রভু শ্রী শ্রী রামচন্দ্র নিজের মাহাত্ম্য দেখিয়ে ফের এই রাজ্যেও প্রকট হবেন। আর মুখে হাসি ফুটবে রাম ভক্ত বিজেপি নেতাদের মুখে। জয় শ্রী শ্রী রামচন্দ্র বলে দু হাত তুলে জয়ধ্বনি দেবেন তাঁরা প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের নামে।
