কদিন আগে বাংলাদেশের জেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর হয়েছিল সংবাদমাধ্যমে। এবার বাংলাদেশে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় ধৃত সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জামিন মামলায় এল বড় আপডেট।আগামী ৩১ মার্চের পরে তাঁর জামিন সংক্রান্ত মামলাটি উঠতে পারে বাংলাদেশের হাই কোর্টে, এমনটাই জানিয়েছেন চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী অপূর্বকুমার ভট্টাচার্য।অর্থাৎ মামলার শুনানি হবে ঈদের ছুটির পর।
২০২৪ সালের অগাস্টের পাঁচ তারিখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গোটা বিশ্ব দেখেছে এক অন্য বাংলাদেশের ছবি। ৫ তারিখ থেকেই বিভিন্ন জেলায়, সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য, তাদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে ব্যাপক হামলা শুরু হয়। আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বাড়িতে বাড়িতে। হত্যাকান্ডের পাশাপাশি লাগাম ছাড়া হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। অগাস্টের ৯ তারিখ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুসকে লেখা এক খোলা চিঠিতে দুটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সংগঠন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ গোটা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া হিংসাও অত্যাচারের কথা তথ্য দিয়ে জানায়।
দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আট দফা দাবিতে বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশসহ নানান কর্মসূচি পালন শুরু করে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট।ওই জোটের মুখপাত্র হিসেবে লড়াইয়ে সামনের সারিতে আসেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে জনসভার পরই ৩০ অক্টোবর ১৯ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতয়ালী থানায় একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। ঘটনাক্রমে গত ২৫ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেফতার করে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের পুলিশ। ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আদালত চত্বর। সেখানে আইনজীবী আলিফ খুন হন। হত্যার অভিযোগ ওঠে হিন্দু বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে এবং ১১ জনকে সরাসরি খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে ভাঙচুর, অশান্তির মামলায় গ্রেফতার হন আরও ৪০ জন।
তবে বারবার বাধার সম্মুখীন হয়েছে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জামিন প্রক্রিয়া। গত ৩ ডিসেম্বর শুনানি থাকলেও জামাত-সহ কট্টরপন্থী ইসলামি সংগঠনগুলির হুমকির জেরে কোনও আইনজীবী আদালতে হাজির হতে পারেননি বলে অভিযোগ।এরপর ২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের আদালতে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়। পরে ৪ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্ট চিন্ময়কৃষ্ণের জামিন বিষয়ে রুল জারি করে। কেন তাঁকে জামিন দেওয়া যাবে না, আদালত বাংলাদেশ সরকারের কাছে এই বিষয়ে হলফনামা জমা দিতে বলে। কাজেই ইদের পরে এই মামলা ও তার রায় ঘিরে নজর থাকবে দুই পড়শী দেশের।গ্রেফতার হওয়ার চার মাস পর জামিন পাবেন চিন্ময়কৃষ্ণ দাস, এই বিষয়ে আশাবাদী তাঁর আইনজীবীরা।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
