বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউনুস সরকারের নীতির বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু নিপীড়ন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের মতো বিষয়গুলিতে তিনি সরব থাকেন।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও কার্যপ্রণালীর তীব্র বিরোধিতা করে তিনি প্রায়শই তাদের দায়িত্বহীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর এই প্রতিবাদ আরও তীব্র হয়েছে, যা বাংলাদেশি রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে তিনি একের পর এক প্রশ্ন তুলছেন এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। এবার তাঁর কলম উঠল সাধক চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে।
তসলিমা নাসরিন সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন শেয়ার করে লেখেন, “চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মুক্তি দিন, ইউনুস মহাশয়। ন্যায়বিচারের পথে হাঁটার সাহস আপনার আছে কি না জানি না, তবে সৎ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।”
এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই ভারতীয় নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভের ঝড় ওঠে। অনেকেই বাংলাদেশ সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং চিন্ময়ের মুক্তির দাবি জানান। এটি নতুন নয়—তসলিমা আগেও বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নিপীড়নের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
গত চার মাস ধরে ইউনুস প্রশাসনের কারাগারে বন্দি রয়েছেন সাধক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হলেও অনুসারীদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটজনক।
কারাবন্দি অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। হৃদযন্ত্র ও যকৃৎ বিকল হওয়ার পথে, চিকিৎসা না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনশন করছেন তিনি, ফলে তাঁর জীবন বিপন্ন হয়ে উঠছে। দ্রুত মুক্তি না পেলে মারাত্মক পরিণতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সনাতনী সংগঠনগুলোর মতে, চিন্ময়ের মুক্তি না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ভয়াবহ পরিণতি ঘটতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের ধর্মীয় মহলও উদ্বিগ্ন।
ইতিমধ্যেই কলকাতার সাধু-সন্তরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ, ইসকনের রাধারমন দাস সহ বিভিন্ন ধর্মীয় নেতারা বাংলাদেশের প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
কার্তিক মহারাজ বলেন, “একজন নিরপরাধ সাধুকে অন্যায়ভাবে আটক রেখে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থা কি চরম সংকটের দিকে যাচ্ছে? আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করুন এবং প্রয়োজনে বৈশ্বিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজুন।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন ইতিমধ্যেই আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান নিপীড়নের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিতে ধর্মীয় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো একত্রিত হচ্ছে। পরিস্থিতি যদি দ্রুত পরিবর্তন না হয়, তাহলে এই ইস্যু আরও বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
