বাজেটে চাকরির মহাঘোষণা! রাজ্যের ১ লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের বার্তা, বেকারদের সামনে খুলছে নতুন দরজা

 

কলকাতা: ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি ছিল, ক্ষমতায় এসে কর্মসংস্থানই হবে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সোমবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করতে গিয়ে সেই প্রতিশ্রুতিরই বড় প্রতিফলন দেখা গেল। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করলেন, আগামী কয়েক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে প্রায় এক লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে। বাজেট বক্তৃতার এই ঘোষণার পরই চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো জ্বলেছে।

 

দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া, শূন্যপদ এবং কর্মসংস্থান বাংলার রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, পুলিশ, প্রশাসন— প্রায় সব ক্ষেত্রেই শূন্যপদ পূরণের দাবি উঠেছিল বারবার। সেই আবহেই পালাবদলের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে কর্মসংস্থানকে সামনে রেখে বড় বার্তা দিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।

 

সরকারি সূত্রের দাবি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র, পঞ্চায়েত, কৃষি, সেচ, পূর্ত এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দফতরে ধাপে ধাপে নিয়োগ করা হবে। বহু বছর ধরে খালি পড়ে থাকা পদগুলিও দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোই নয়, এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতীর হাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

 

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য শিল্প বিনিয়োগে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে নতুন শিল্প আনার জন্য নয়া শিল্পনীতি ঘোষণার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, সরকারি নিয়োগের পাশাপাশি শিল্পায়নের মাধ্যমে বৃহত্তর কর্মসংস্থানের পরিবেশ তৈরি করাই আগামী দিনের লক্ষ্য।

 

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নিয়েছে নতুন সরকার। সম্প্রতি রাজ্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৪৫ বছর করা হয়েছে। দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় বহু পরীক্ষার্থী বয়সের কারণে সুযোগ হারাচ্ছিলেন। নতুন সিদ্ধান্তে তাঁদের বড় অংশ ফের প্রতিযোগিতায় ফিরে আসার সুযোগ পাবেন বলে মনে করছে প্রশাসন।

 

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এক লক্ষ চাকরির ঘোষণা শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও। গত কয়েক বছরে নিয়োগ দুর্নীতি, আদালতের হস্তক্ষেপ এবং চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে স্বচ্ছ ও দ্রুত নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে জনমানসে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করছে নতুন সরকার।

 

তবে ঘোষণা যত বড়ই হোক, নজর থাকবে বাস্তবায়নের দিকে। কবে থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে, কোন কোন দফতরে কত পদে নিয়োগ হবে এবং কত দ্রুত সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে— সেই উত্তর খুঁজছেন লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী।

 

তবুও বাজেটের দিন শেষে একটি বিষয় স্পষ্ট। মহিলাদের জন্য বিশেষ প্রকল্প, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্প বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থানকেই এবারের বাজেটের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে চেয়েছে সরকার। আর সেই কারণেই ২০২৬ সালের এই বাজেটকে ইতিমধ্যেই অনেকেই ‘চাকরির বাজেট’ বলে আখ্যা দিতে শুরু করেছেন।