অন্তরমহলে অন্তর্দ্বন্ধ তৃণমূল কংগ্রেসে,তীব্র প্রতিযোগিতা দুই শিবিরে

 

নতুন রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক 

 

অঙ্কন দাস 

 

​তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এবার প্রকাশ্য সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। দলের 'আসল' ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি কাদের, তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে তীব্র দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে।

সোমবার একদিকে যখন ঋতব্রত শিবির নিজেদের ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের তোড়জোড় করছে, ঠিক তখনই দলনেত্রী ও চেয়ারপারসন হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর তৈরি করা নতুন ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটির একটি তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ৫ই জুন গঠিত কমিটিতে অরূপ বিশ্বাস থাকলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো এই নতুন তালিকা থেকে তাঁকে এবং আরও অনেককেই বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তৃণমূলের আসল ন্যাশনাল কমিটি কোনটি, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা।

দলের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনে আইনি লড়াই শুরু হতে চলেছে। মনে করা হচ্ছে, এই জল আদালত পর্যন্তও গড়াতে পারে। জানা গিয়েছে, বিধানসভার চলতি অধিবেশন শেষ হওয়ার পরেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে যাবে। সেখানে তাঁরা তাঁদের তৈরি করা ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটির পালটা তালিকা এবং আনুষঙ্গিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র কমিশনের হাতে তুলে দেবেন। পাশাপাশি, দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছেও আইনজীবীর মাধ্যমে যাবতীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এই শিবিরের।

এদিকে, আসন্ন কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়েছে ঋতব্রত শিবির। ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০ জনের মতো তৃণমূল কাউন্সিলর নতুন তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এই আবহে আগামী ২৫শে জুন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ববি হাকিমরা ওই কাউন্সিলরদের নিয়ে আলাদা করে এক বিশেষ বৈঠকে বসতে চলেছেন।

এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনা উসকে দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।মমতার মন্ত্রীসভায় প্রথমে খাদ্য এবং গণবন্টন দফতরের মন্ত্রী ছিলেন তিনি। তবে রেশন দূর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ২৭শে অক্টোবর, ২০২৩ এ রেশন দুর্নীতির জন্য তিনি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডির) হাতে গ্রেপ্তার হন৷ ১৫ই জানুয়ারি ২০২৫ তাকে জামিন দেয়া হয়। ছাড়াও তিনি বন দফতরের মন্ত্রী ছিলেন। '২৬শের বিধানসভার নির্বাচনে তার নিজের জেতা আসন হাবড়া থেকে তার পরাজয় ঘটে।

 মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত 'স্নেহভাজন' বিধায়ক এবং মন্ত্রী ছিলেন তার আদরের 'বালু'।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনার পর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি আগেই তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়েছিলেন। তবে সূত্র জানাচ্ছে, এই 'শারীরিক অসুস্থতা' আসলে আই ওয়াশ! তলায় তলায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সাথে যোগাযোগ রাখছিলেন তিনি।

আজ, বিধানসভায় ঋতব্রতের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। এই বৈঠকের পরেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করে তিনি সরাসরি ঋতব্রত শিবিরের হাত ধরে 'নতুন তৃণমূল'-এ যোগদান করেন কিনা, এখন সেদিকেই নজর গোটা রাজনৈতিক মহলের।