কে বলে, চল্লিশে চালশে? ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোদের মতো অতিমানবদের সামনে মাথা নত করতে বাধ্য হয় প্রকৃতির নিয়মও। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কঙ্গোর বিরুদ্ধে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ৪১ বছরের সিআর সেভেন। কিন্তু মহাতারকারা যে জবাবটা মাঠেই দেন, তা আরও এক বার প্রমাণ করে দিল মঙ্গলবারের হিউস্টন। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জোড়া গোল করে পর্তুগালকে ৫-০ ব্যবধানে জিতিয়ে দিলেন চিরতরুণ রোনাল্ডোই। তার সুবাদে নকআউট পর্বের প্রায় দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল দলও।

ম্যাচের শুরুটা যদিও পর্তুগিজ মহাতারকার জন্য একেবারেই সুখকর ছিল না। ৪ মিনিটের মাথায় সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করায় সমালোচনার সুর আরও চড়েছিল। ঠিক দুই মিনিটের মধ্যে বদলে যায় ছবিটা। ৬ মিনিটে পেদ্রো নেতোর বাড়ানো বলে কঠিন কোণ থেকে অসাধারণ গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গড়ে ফেলেন অবিস্মরণীয় একটি কীর্তি। এই নিয়ে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার নজির গড়লেন রোনাল্ডো। যা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হয়ে থাকবে। 

তবে এ দিনের রোনাল্ডো শুধুই গোলদাতা নন। মাঝমাঠে নেমে বল বিলি করা, সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করে দেওয়া এবং প্রয়োজনমতো রক্ষণে সাহায্য করা, সর্বত্রই ছিল তাঁর উপস্থিতি। বিশেষ করে ব্রুনো ফের্নান্দেজের সঙ্গে বোঝাপড়া ছিল দেখার মতো। আগের ম্যাচে এই ছোট ছোট রসায়নই অনুপস্থিত ছিল পর্তুগালের খেলায়। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে এগুলি ফিরতেই আরও ধারালো হয়ে ওঠে আক্রমণ। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল পান রোনাল্ডো। দ্বিতীয় গোলটির ক্ষেত্রেও তাঁর অভিজ্ঞতা ও ক্ষিপ্র সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার ছাপ স্পষ্ট। বল নিয়ন্ত্রণে না নিয়েই নেওয়া শট সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়।

এই জয়ের ফলে গ্রুপে অত্যন্ত সুবিধাজনক জায়গায় পৌঁছে গেল পর্তুগাল। এ বার শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে একটি ড্র-ই যথেষ্ট রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করতে। ২০০৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপেই গোল করেছিলেন। এর পরেও চল্লিশোর্ধ্ব রোনাল্ডোর গোলের ক্ষুধা যে এতটুকু কমেনি, তার প্রমাণ মিলল টানা ৬ টি বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ডে। উজবেকিস্তানের গোলরক্ষক একাধিক নিশ্চিত সুযোগ রুখে না দিলে লিও মেসির মতো এ দিন তাঁর নামের পাশেও হ্যাটট্রিক জুড়ে যেতে পারত। সব মিলিয়ে সমালোচকদের উদ্দেশে আলাদা করে কিছু বলার প্রয়োজনই পড়ল না। তাঁর উত্তর লেখা রইল স্কোরবোর্ডেই।