মাঠে ফুটবল কম, কুস্তি হল বেশি। একে অপরের শারীরিক ক্ষমতার মহড়া নিলেন দুই দলের ফুটবলাররা। চোট পেলেন হ্যারি কেন। মাথা ফাটল বিপক্ষ অধিনায়কেরও। তবু ৯০ মিনিট জুড়ে গোলের দেখা পেল না এ বারের বিশ্বকাপের অন্যতম হট ফেভারিট ইংল্যান্ড। যে প্রাচীর তুলে দাঁড়িয়েছিল ঘানার রক্ষণভাগ, প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা আক্রমণ বিভাগ নিয়েও তা ভাঙতে না পেরে মঙ্গলবার গোলশূন্য ড্রয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল ১৯৬৬ -এর বিশ্বজয়ীদের।

আফ্রিকার দেশটির বিরুদ্ধে লড়াই যে সহজ হবে না, সেই বার্তা ম্যাচের শুরুতেই পেয়েছিলেন ইংরেজরা। হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যামদের একের পর এক আক্রমণ হারিয়ে যেতে থাকে ঘানার ডিফেন্ডারদের ভিড়ে। অন্য দিকে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে উঠে ইংরেজ রক্ষণকে ব্যস্ত রেখেছিল ঘানা। শেষ পর্যন্ত কোনও দলই বল জালে জড়াতে পারেনি। বরং লড়াইটা হল কার্যত শারীরিক শক্তির।

এক পর্যায়ে সেই লড়াই প্রায় কুস্তির রূপ নেয়। ঘানার এক ফুটবলারের সঙ্গে ধাক্কায় মাথায় চোট পান কেন। আবার ২১ মিনিটে রিস জেমসের সঙ্গে সংঘর্ষে মাথা ফেটে যায় ঘানার অধিনায়ক জর্ডন আয়েউর। চিকিৎসকদের দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে মাঠে ফেরেন তিনি। দুই দলের ফুটবলারদের কঠোর লড়াইয়ে বড় চোটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল একাধিক বার।

যদিও এরই মধ্যে ম্যাচের শুরুতে কিছুটা হলেও দাপট দেখিয়েছিল টমাস টুখেলের দল। ১০ মিনিটের মাথায় বেলিংহ্যাম ও কেনের বোঝাপড়ায় তৈরি হয়েছিল সম্ভাবনাময় আক্রমণ। কিন্তু ঘানার দুর্দমনীয় রক্ষণভাগের সামনে আটকে যায় সেই প্রচেষ্টা। কেন কিংবা অ্যান্টনি গর্ডন বল পেলেই দু-তিনজন ডিফেন্ডার ঝাঁপিয়ে পড়ছিলেন। ফলে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজেই পেল না ইংল্যান্ড। মাঝমাঠে পাস খেলে খেলার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেও বিশেষ লাভ হয়নি।

গোলের খোঁজে দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক পরিবর্তন করেন টুখেল। ৬৫ মিনিটে বুকায়ো সাকা ও নিকো ও’রেইলিকে নামিয়ে আক্রমণে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। পরে মাঠে আসেন মার্কাস র‌্যাশফোর্ডও। কিন্তু ভাগ্য যেন সঙ্গ দিচ্ছিল না ইংল্যান্ডকে। ৮৬ মিনিটে ম্যাচের সেরা সুযোগ নষ্ট করেন কেন। ও’রেইলির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসার পর ছয় গজের বক্সের সামনে ফাঁকায় বল পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। এই ড্রয়ের পর কোচ টুখেল যে দলের আক্রমণে বৈচিত্র্য নিয়ে কিছুটা হলেও চিন্তায় থাকবেন তা বলাই বাহুল্য। এ বারের বিশ্বকাপে অন্যতম সেরা আক্রমণ বিভাগ ইংল্যান্ডেরই। এর পরেও ঘানা ম্যাচ তুলে দিয়ে গেল একাধিক প্রশ্ন।