তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃত ও আহতদের প্রাথমিক তালিকা সামনে এল। এখনও পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৪০ বছরের রোহিত চৌধুরী, ৩০ বছরের কৃষ্ণা চৌধুরী এবং প্রায় ৩০ বছরের এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন ৫৬ বছরের দুর্বাসা মল্লান, ২২ বছরের মণি চাঁদ কুমার, ২৬ বছরের সাহিদ কুমার, ২৫ বছরের রাজেশ রুইদাস, ২৮ বছরের বিশ্ব প্রকাশ, ২৮ বছরের বোদান মুন্ডা, ৫৫ বছরের রাজেন্দ্র রাও এবং ২১ বছরের রামপ্রসাদ চৌধুরী। তাঁদের গ্রিন করিডোর করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে দাবি, বুধবার সকাল থেকেই নির্মীয়মাণ পাঁচতলা কাঠামোর লোহার ফ্রেম অস্বাভাবিকভাবে দুলছিল। সেই কাঠামো পরীক্ষা করতে কয়েকজন শ্রমিক ছাদের নিচে জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিকট শব্দে ভারী লোহার বিম ও ছাদের অংশ ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।

জানা গিয়েছে, কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি লিজে নিয়ে একটি চা প্রস্তুতকারক সংস্থা সেখানে বড় চায়ের গুদাম তৈরির কাজ করছিল। প্রায় দেড় বছর ধরে নির্মাণকাজ চলছিল। দুর্ঘটনার সময় ভিতরে ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে খবর।

উদ্ধারকাজে দমকল, পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পাশাপাশি জেসিবি ও গ্যাসকাটার ব্যবহার করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা পুরসভা এলাকায় ৩১ জুলাই পর্যন্ত সন্দেহজনক বাণিজ্যিক নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।