কলকাতা: তারাতলার ভয়াবহ গুদামধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলার মধ্যেই উদ্ধার হয়েছে আরও এক শ্রমিকের দেহ। ঘটনার জেরে গ্রেফতার করা হয়েছে গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহেরাকে। পুলিশ সূত্রে খবর, নির্মাণ সংক্রান্ত একাধিক নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমোদন, নিরাপত্তা বিধি এবং কাঠামোগত ত্রুটির দিকগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বুধবার থেকেই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছিল বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, দমকল ও পুলিশ। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া শ্রমিকদের খোঁজে চলছিল তল্লাশি। শেষ দেহটি উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯-এ পৌঁছয়। ঘটনায় আহত বেশ কয়েক জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ দিকে, এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজ্যের শাসকদল ও বাম আমলের পরিকাঠামো ব্যবস্থাপনাকে একযোগে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নির্মাণ ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নজরদারির অভাবের ফলেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। দিলীপের দাবি, মানুষের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা চলেছে তৃণমূলের সরকারের আমলে।

বিজেপি নেতার বক্তব্য, কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বহু পুরনো এবং ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ এখনও ব্যবহার করা হচ্ছে। নিয়মিত পরিদর্শন এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অন্য দিকে, প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ধসের প্রকৃত কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। নির্মাণের নকশা, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং গুদামের ব্যবহার সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে গাফিলতি বা বেআইনি নির্মাণের প্রমাণ মিললে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

তারাতলার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও শহরের পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। এক দিকে যখন মৃতের পরিবারগুলির শোক এবং ক্ষোভ বাড়ছে, অন্য দিকে দায় কার— সেই প্রশ্ন ঘিরেই তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক তরজা। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর সকলের।