ক্রিকেটের দুনিয়ায় ‘প্রোটিয়া’ নামটা সমীহ জাগায় দীর্ঘদিন ধরেই। সেখানে ফুটবলে দক্ষিণ আফ্রিকা মানে শুধুই যেন ২০১০ বিশ্বকাপের আয়োজক। যারা কখনও গ্রুপ পর্বের বাধাই টপকাতে পারেনি। এমনকি ঘরের মাঠেও না। এ বার সেই দলই বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে এশিয়ার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লিখে ফেলল নিজেদের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সাফল্যের কাহিনি। ১-০ ব্যবধানের এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমবারের জন্য পৌঁছে দিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে।

দক্ষিণ কোরিয়া বলের দখল এবং আক্রমণের সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও গোলের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণ ছিল প্রায় অভেদ্য। একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে ধৈর্যের পরীক্ষা উতরে যায় তারা। এরই মধ্যে ৬৩ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন থাপেলো মাসেকো। তাঁর এই শটে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় কোরিয়ার আক্রমণাত্মক ফুটবল। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় উৎসব। কারণ, এই জয় শুধু নকআউট নিশ্চিত করেনি। আফ্রিকান ফুটবলের মানচিত্রেও দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য খুলে দিয়েছে নতুন দরজা। 

শুরুটা অবশ্য এমন ছিল না। প্রথম ম্যাচে আয়োজক মেক্সিকোর কাছে ০-২ হারে অনেকেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে কার্যত ছিটকে দিয়েছিলেন প্রতিযোগিতা থেকে। কিন্তু অনিশ্চয়তাই যে ফুটবলের সৌন্দর্য। দ্বিতীয় ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিল দলটি। ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে সমীকরণ ছিল স্পষ্ট। জিতলেই ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন মাসেকো। পরের রাউন্ডে তাঁদের প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপের আরেক আয়োজক কানাডা। অর্থাৎ কাগজে-কলমে খুব একটা শক্ত নয় সেই বাধাও।

অন্যদিকে, নিঃসন্দেহে হতাশার সকাল দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য। ৩ ম্যাচে মাত্র ৩ পয়েন্ট এবং নেগেটিভ গোলপার্থক্য নিয়ে এখন তাদের ভরসা তৃতীয় স্থানাধিকারীদের জটিল অঙ্ক। একই গ্রুপে মেক্সিকো ৩-০ গোলে হারিয়েছে চেক প্রজাতন্ত্রকে। তাতেই রচিত হয়েছে আরেক ইতিহাস। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে এই প্রথমবার তিন ম্যাচের তিনটিতেই জয় পেল মেক্সিকো। পাশাপাশি এ বারের বিশ্বকাপে তিন আয়োজকই চলে গিয়েছে নক আউট পর্বে। তবে দিনের শেষ আলোটা নিঃসন্দেহে দক্ষিণ আফ্রিকার। বিশ্ব ফুটবলের মহারণ্যে তারা জানিয়ে দিল, চমকের গল্প এখনও লেখা বাকি।