পাসপোর্ট কি ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ? বিদেশমন্ত্রকের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। মন্ত্রকের বক্তব্য, পাসপোর্ট বিদেশ ভ্রমণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হলেও সেটি নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। প্রশ্ন উঠছে, যদি পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ না হয়, তাহলে একজন ভারতীয় কীভাবে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করবেন?

বিতর্কের সূত্রপাত বিদেশমন্ত্রকের একটি ব্যাখ্যা থেকে। সেখানে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট মূলত একটি ভ্রমণ সংক্রান্ত সরকারি নথি। নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয় নাগরিকত্ব আইন বা সিটিজেনশিপ অ্যাক্টের মাধ্যমে, আর পাসপোর্ট দেওয়া হয় পাসপোর্ট আইনের আওতায়। ফলে দু’টি বিষয় আইনি দিক থেকে এক নয়। এই মন্তব্য সামনে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতীয় নাগরিক না হলে যখন সাধারণভাবে পাসপোর্ট পাওয়া যায় না, তখন সেটিকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ধরা হবে না কেন? বিদেশমন্ত্রকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার কোনও অ-নাগরিককেও পাসপোর্ট বা পাসপোর্ট-সদৃশ ভ্রমণ নথি প্রদান করতে পারে। সেই কারণেই পাসপোর্টকে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হয় না।

এদিকে এর আগেও আধার কার্ডকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আধার মূলত পরিচয় এবং বাসস্থানের তথ্য সংক্রান্ত নথি। নাগরিকত্বের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পর্ক নেই। একইভাবে ভোটার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেশন কার্ড বা অন্যান্য সরকারি পরিচয়পত্রও নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। 

তাহলে নাগরিকত্বের প্রমাণ কী? আইন অনুযায়ী, যাঁরা নিবন্ধন বা স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাঁদের সরকারিভাবে একটি ‘সিটিজেনশিপ সার্টিফিকেট’ বা নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়া হয়। এই নথিই নাগরিকত্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ। তবে দেশের অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ ভারতের বেশিরভাগ নাগরিক জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেয়েছেন। তাঁদের কাছে সাধারণত কোনও নাগরিকত্বের শংসাপত্র থাকে না। সেক্ষেত্রে জন্মের নথি, অর্থাৎ জন্ম শংসাপত্র, পিতামাতার নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য সহায়ক নথির ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু এমন কোনও একক নথি নেই, যা সব ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃত।

নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ থেকে ১ জুলাই ১৯৮৭-এর মধ্যে ভারতে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তি জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক। ১ জুলাই ১৯৮৭-এর পর জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের মধ্যে অন্তত একজন ভারতীয় নাগরিক হলে নাগরিকত্বের দাবি করা যায়। আর ৩ ডিসেম্বর ২০০৪ বা তার পরে জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে সাধারণত বাবা-মা উভয়ের নাগরিকত্বের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।