তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ভয়াবহ ঘটনার মধ্যেও সামনে এল এক অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরার কাহিনি। প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর এক শ্রমিকের একটি ফোন কলই শেষ পর্যন্ত তাঁকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিল। অন্ধকার, ধুলো আর কংক্রিটের স্তূপের নিচে আটকে থেকেও তিনি বন্ধুকে ফোন করে শুধু বলেছিলেন, “আমাকে বাঁচা।” সেই একটি বাক্যই উদ্ধারকারী বাহিনীর কাছে হয়ে ওঠে আশার আলো।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তারাতলার নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার পর বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ, দমকল, এনডিআরএফ, সেনাবাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সারারাত ধরে চলে অভিযান। কিন্তু রাত গড়িয়েও বহু শ্রমিকের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

এই পরিস্থিতিতেই বুধবার গভীর রাতে ঘটে এক নাটকীয় ঘটনা। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা বিহারের মুঙ্গের জেলার বাসিন্দা মনু কুমার আচমকাই ফোন করেন তাঁর বন্ধু সন্তোষ কুমারকে। রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ ফোন পেয়ে প্রথমে কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি সন্তোষ। পরে মনুর অস্পষ্ট কণ্ঠে শোনা যায় একটাই কথা—“আমাকে বাঁচা।” তিনি আর বেশি কথা বলতে পারেননি। সন্তোষ তাঁকে মোবাইলের লোকেশন পাঠাতে বললেও সেই অবস্থায় তা সম্ভব হয়নি।

এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে বন্ধু সন্তোষ কুমার ও বিভূতি কুমার ছুটে যান ঘটনাস্থলে। তাঁরা উদ্ধারকারী বাহিনীকে পুরো বিষয়টি জানান। এরপর প্রযুক্তির সাহায্যে মনুর মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়। মোবাইলের সিগন্যাল ট্র্যাক করে সম্ভাব্য জায়গা চিহ্নিত করা হয় এবং সেখানেই শুরু হয় নিবিড় উদ্ধার অভিযান।

দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ৬টা নাগাদ ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মনু কুমারকে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এত দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থেকেও মানসিক স্থিরতা বজায় রেখে ফোন করার সিদ্ধান্তই তাঁর জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

তারাতলার এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মাঝে মনু কুমারের এই উদ্ধারকাহিনি যেন আশার নতুন আলো দেখিয়েছে। যখন মৃত্যুর ছায়া চারদিক ঘিরে ধরেছিল, তখন একটি ফোন কল, বন্ধুদের তৎপরতা এবং উদ্ধারকারী বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টাই ফিরিয়ে দিল এক শ্রমিকের জীবন।