মুর্শিদাবাদে সাম্প্রতিক হিংসাত্মক ঘটনার প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রাষ্ট্রপতি শাসন (Article 365) জারির সুপারিশ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সম্প্রতি তিনি নিজে মুর্শিদাবাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপরই একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে, যার প্রতিলিপি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরেও পৌঁছেছে বলে সূত্রের খবর।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, মুর্শিদাবাদের ঘটনাগুলি পূর্বপরিকল্পিত এবং স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতার ফল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় মেরুকরণ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শোষণের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বোস সুপারিশ করেছেন, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনী – বিএসএফ ও সিআরপিএফ – স্থায়ীভাবে মোতায়েন করা হোক। পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যদি আরও অবনতির দিকে যায়, তবে সংবিধানের ২৫৬ অনুচ্ছেদ কার্যকর করার কথাও বলা হয়েছে রিপোর্টে।
এই প্রেক্ষাপটে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন। মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুরে বদলে দেওয়া হয়েছে পুলিশ সুপার। বরখাস্ত করা হয়েছে সামশেরগঞ্জ থানার ওসি ও এক সাব-ইন্সপেক্টরকে।
এই পরিস্থিতিতে সোমবারই জেলার উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে তিনি বহরমপুর সার্কিট হাউসে থাকবেন এবং মঙ্গলবার সামশেরগঞ্জ ও সুতিতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করবেন বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে জোর তৎপরতা শুরু হলেও রাজ্যপালের রিপোর্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
