পশ্চিমবঙ্গে এসএসসি (স্কুল সার্ভিস কমিশন) নিয়োগ দুর্নীতির পরিপ্রেক্ষিতে যেসমস্ত চাকরি বাতিল ঘোষণা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট, সেই রায়ের পুনর্বিবেচনার জন্য এবার উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলো রাজ্য সরকার ও এসএসসি। সংখ্যায় ২৬ হাজার বললেও, আসলে ২৫,৭৩৫টি চাকরি বাতিল হয়েছে। এই ঘটনা রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব সংকট তৈরি করেছে এবং তা রাজনৈতিক দিক থেকেও গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে।
২০১৬ সালের উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আদালতে ঝুলে ছিল। কলকাতা হাইকোর্ট ওই নিয়োগ প্যানেল সম্পূর্ণরূপে বাতিল করার নির্দেশ দিলে, তা চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে যায় রাজ্য। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি। ফলে, ‘যোগ্য-অযোগ্য নির্বিশেষে’ হাজার হাজার প্রার্থীর চাকরি বাতিল হয়ে যায়। যদিও বেশ কয়েকজন প্রার্থী বা শিক্ষক যথেষ্ট যোগ্য ছিলেন, তবুও প্যানেল অকার্যকর ঘোষিত হওয়ায় তাঁরাও চাকরি হারান।
এই পটভূমিকায়, রাজ্য সরকার ও এসএসসি সুপ্রিম কোর্টে রায় পুনর্বিবেচনার জন্য রিভিউ পিটিশন দায়ের করেছে। ৩ এপ্রিল রায় ঘোষণার পর একমাসের মধ্যে, অর্থাৎ ৩ মে এই আবেদন জমা পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সোমবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রথমত, রাজ্য চায় বিচারপতিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বোঝাতে যে, শুধুমাত্র দুর্নীতির জন্য নয়, অনেক যোগ্য শিক্ষকও অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দ্বিতীয়ত, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে যে, যাঁরা এখনো ‘অযোগ্য’ হিসেবে আদালতের দ্বারা চিহ্নিত হননি, তাঁদের চলতি শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত অন্তত কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। এর পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
এসএসসি দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, এবং ক্ষোভের আগুন ধীরে ধীরে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে। আবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে এই ক্ষয়িষ্ণু বিশ্বাস পুনর্গঠনের, যার অন্যতম পদক্ষেপ এই রিভিউ পিটিশন।
তবে এই পুনর্বিবেচনার আবেদন কতটা সাফল্য পাবে, তা নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানির উপর। আদালত যদি রায় পুনর্বিবেচনার সম্মতি জানায়, তাহলে কিছু চাকরি আবার পুনর্বহাল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। অন্যথায় রাজ্য সরকারকে সম্পূর্ণ নতুন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ করতে হবে, যা আবারও সময়সাপেক্ষ এবং প্রশাসনিকভাবে চ্যালেঞ্জিং।
