শঙ্খদ্বীপ মুখোপাধ্যায়
যার নিখুঁত পরিকল্পনা কেরে নেই শত্রুপক্ষের ঘুম, যার খুড়োধার মস্তিস্ক ব্যর্থ করে শত্রুর একের পর এক নাশকতা। দীর্ঘ ৭ বছর আন্ডারকভার হয়ে কাটিয়েছেন পাকিস্তানে। জানেন কে এই পর্দার আড়ালে থাকা ভারতের অন্যতম ‘রিয়েল হিরো ‘? পুরো নাম অজিত কুমার দোভাল, যিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পঞ্চম এবং বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। ইতিহাস? কেরল ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার এবং প্রাক্তন ভারতীয় গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী কর্তা। ১৯৪৫ সালে উত্তরাখণ্ডে জন্মান অজিত কুমার দোভালের,কর্মরত অবস্থায় তিনিi ছিলেন ভারতের সর্বকনিষ্ঠ পুলিশ অফিসার যিনি সামরিক কর্মীদের জন্য বীরত্বের পুরষ্কার অর্থাৎ কীর্তি চক্র মেরিটোরিয়াস সার্ভিস সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন সেই । কিন্তু কেন টাকে পর্দার আড়ালে থাকা ‘রিয়েল হিরো’ বলে টাকে সম্বোধন করা হলো ? সার্ভিস জীবনে তার বহু কীর্তি অপ্রকাশিত, কারণ হলো গোপনীয়তা, কিন্তু ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাক সীমান্ত পেরিয়ে বালাকোটে বিমান হামলা হয়েছিল এই অজিত কুমার দোভালের নিখুঁত পরিকল্পনাতেই, যেই সময় প্রতিবেশী বুঝতে পারে ভারতকে চটালে ভারত ঘরে ঢুকে পাল্টা প্রত্যাঘাত করতে দুবার ভাবে না আর। শুধু কি তাই ? তিনি ডোকলাম অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে এবং উত্তর-পূর্বে বিদ্রোহ দমনে সিদ্ধান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করেছিলেন। যদি তার পুরোনো দিনের কীর্তি ফিরে দেখা যায় তবে দেখা যাবে,অজিত কুমার দোভাল ১৯৬৮ সালে আইপিএস অফিসার হিসেবে পুলিসে তাঁর কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। মিজোরাম ও পঞ্জাবে বিদ্রোহ বিরোধী অভিযানে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৯৯ সালে কান্দাহারে হাইজ্যাক হওয়া আইসি-৮১৪ থেকে যাত্রীদের মুক্তির ক্ষেত্রে যে তিনজন আলোচনাকারী ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন দোভাল । ১৯৭১ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে তিনি ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের কমপক্ষে ১৫টি বিমান হাইজ্যাকিংয়ের ঘটনা সফল ভাবে রুখে দিয়েছিলেন তিনি । সাম্প্রতিক সময় ভারত পাক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সংগঠিত হয় প্রত্যাঘাত পরিকল্পনার বিষয় সেই সময়ও দেখা যায় এই মাস্টার মাইন্ড, যার নাম ‘অজিত কুমার দোভাল’ ।।
