২০১৭ ও ২০২২ সালের প্রাথমিক টেট পরীক্ষায় মোট ৪৭টি প্রশ্ন ভুল ছিল, এই অভিযোগের ভিত্তিতে ফের তোলপাড় রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া। কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এবার কড়া পদক্ষেপ নিল। আগের তদন্ত কমিটি বিভক্ত মত পেশ করায়, এবার নতুনভাবে গঠিত হচ্ছে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের একজন করে বিশেষজ্ঞ এই কমিটিতে থাকবেন। তাঁদের কাজ হবে দুই বছরের প্রশ্নপত্র খতিয়ে দেখা ও নিশ্চিত করা, প্রশ্নে প্রকৃতপক্ষে ভুল ছিল কিনা এবং সঠিক উত্তর কোনটি হওয়া উচিত।
প্রসঙ্গত, শুরুতে পর্ষদ নিজেই এই তদন্ত পরিচালনার আবেদন করলেও, আদালত সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেয়। এমনকি বিশ্বভারতী ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদেরও বাইরে রেখে, নতুন সংস্থা নির্ভর বিশেষজ্ঞ কমিটিকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, যদি তদন্তে প্রমাণ হয় যে প্রশ্নগুলি ভুল ছিল, তাহলে তা ফলাফল ও নিয়োগের উপর প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলবে। এর ফলে অনেক পরীক্ষার্থীর ফল বদলাতে পারে, এমনকি নিয়োগ বাতিল বা পুনর্মূল্যায়নের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ভুল প্রশ্নের প্রভাব পড়েছে হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর জীবনে। ফলে কমিটির রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। টেট পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে আগেই ক্ষোভ ছড়িয়েছিল রাজ্য জুড়ে। এখন প্রশ্ন, নতুন তদন্তে কী উঠে আসবে? প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে সেই ভিত্তিতেই নিতে হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।
