সরকারি হোক বা বেসরকারি সংস্থা, কোনও মহিলাকে রাতে কাজ করতে বাধ্য করা যাবে না। তাঁকে যদি নাইট শিফটে রাখতে হয়, তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তাঁর লিখিত সম্মতি নিতে হবে। শুধুমাত্র স্বেচ্ছায় ডিউটিতে রাজি হলে তবেই তাঁকে রাত্রিকালীন কাজে বা নাইট ডিউটিতে নিয়োগ করা যাবে।
আর জি কর হাসপাতালে নাইট ডিউটিরত তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, নাইট শিফটে কর্মরত মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পরই নাইট শিফটে কর্মরত মহিলা কর্মীদের নিরাপত্তা ঘিরে এবার রাজ্য সরকার আনতে চলেছে নির্দিষ্ট গাইডলাইন। ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র দপ্তর একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। যেখানে মহিলাদের রাত্রিকালীন শিফটে নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক নিয়মবিধি চিহ্নিত করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থার ক্ষেত্রেই এই গাইডলাইন কার্যকর হবে। খসড়ায় স্পষ্ট বলা হয়েছে,
তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, পরিবহণ, পুলিশ সহ বিভিন্ন দপ্তর বা সংস্থার কাছে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে মতামতও চাওয়া হয়েছে, যাঁদের পরিকাঠামোয় মহিলাদের রাতে কাজ করতেই হয়।
নবান্নে তৈরি হওয়া ওই খসড়া প্রস্তাবে মোট ২২টি মূল পয়েন্ট রাখা হয়েছে। সেগুলির মধ্যে রয়েছে, রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সময়টাকেই ‘নাইট শিফট’ হিসেবে ধার্য করা হবে। এই সময়ের মধ্যে যাঁরা কাজ করবেন, তাঁদের জন্য সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। অফিসে যাতায়াতের গাড়ি সংস্থাকে দিতে হবে, যা জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের আওতায় থাকবে। গাড়িতে প্রশিক্ষিত মহিলা নিরাপত্তারক্ষী রাখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে গাড়িতে থাকবে ইমার্জেন্সি অ্যালার্ট সিস্টেমও। সুরক্ষার বিষয়টি শুধুই গাড়িতে সীমাবদ্ধ নয়। অফিস চত্বরের ভিতরেও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা বসাতে হবে এন্ট্রি ও এক্সিট গেটে, করিডরে এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। অফিসে থাকতে হবে বিশ্রাম নেওয়ার ঘর, ক্যান্টিন, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা, যাতে মহিলা কর্মীদের বাইরের পরিবেশে না যেতে হয়। সেই সঙ্গে রাখতে হবে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ গ্রহণ কমিটি, যেখানে যৌন হেনস্তার মতো ঘটনা ঘটলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাইডলাইনে সংস্থাগুলির জন্য আরও কিছু কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। যেমন, প্রত্যেক অফিসেই থাকতে হবে ‘ইন্টারনাল সেফটি রিভিউ কমিটি’, যাঁরা প্রতি তিন মাস অন্তর বৈঠকে বসে সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবেন। নিয়ম ভাঙলে সেই সংস্থাকে শ্রম আইনের ভিত্তিতে জরিমানা করা হবে, এমনকী প্রয়োজনে তাঁদের ছাড়পত্রও বাতিল করা হবে।
নবান্নের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, মহিলা কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। সংস্থাগুলিকে তাঁদের সেফটি পলিসি স্থানীয় ভাষায় বোঝাতে হবে কর্মীদের। অফিস চত্বরে স্পষ্টভাবে ঝুলিয়ে রাখতে হবে জরুরি নম্বর, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। আদালতের নির্দেশ এবং মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা অনুযায়ী দ্রুত এই গাইডলাইন চূড়ান্ত করে তা কার্যকর করার দিকে এগোচ্ছে রাজ্য প্রশাসন।
