বাংলাদেশের ভোটে এবার থাকতে পারছে না হাসিনার দল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে শেখ হাসিনার। আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে এই বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ। ইউনূস সরকার আওয়ামী লীগকে বাদ রেখেই একতরফা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে দলটির অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে মুহাম্মদ ইউনূসের কবলমুক্ত করার ডাক দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
গত ৫ অগস্ট ছিল গণ অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি। এই দিনই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সামনে রেখে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এবার সব দল সহমত হলেই আসতে চলেছে ‘জুলাই সনদ’। কেউ কেউ বলছেন ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ নয়, বাংলাদেশের আসল মুক্তি হয়েছে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়েই। শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে সেই সময়ে গৃহীত সংবিধান, আইন ইত্যাদি সংস্কারের পথেও হাঁটছে অন্তর্বর্তী সরকার।
এমন পরিস্থিতিতেই আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে ২১ দফা দাবি নিয়ে পথে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। ফেসবুকে দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, “বাংলাদেশ আজ ভয়াবহ এক সংকটকাল অতিক্রম করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সুমহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশ আজ উগ্র-সাম্প্রদায়িক জঙ্গি অপশক্তি ও বিদেশি ক্রীড়নকদের দানবীয় তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড, বিপন্ন; এ যেন এক ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত জনপদ!
এক কথায় বলতে গেলে, গোটা দেশ আজ বন্দি কারাগার, বধ্যভূমি, মৃত্যু উপত্যকা!”
সোমবার ফেসবুক পেজের ঘোষণায় লেখা হয়েছে, “আসুন, আমরা স্বাধীনতার সপক্ষে সকল গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল-অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি-সংগঠনসমূহ একটি উদার গণতান্ত্রিক, মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার শপথ গ্রহণ করি এবং গণশত্রু, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গনদের দেশবিরোধী অপকার্যক্রমকে শক্ত হাতে প্রতিহত করি।”
শেখ হাসিনার আহ্বান বলে জানিয়ে সোমবার সকালে আওয়ামী লীগ যে ২১ দফা ঘোষণা করেছে তারও মূল কথা হল মুজিব-হাসিনার বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তন ঘটানো। তাতে বলা হয়েছে, দেশ বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে স্বাধীনতার সপক্ষে সকল গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল-অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
