কার্যকর হল নতুন জিএসটি কাঠামো। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একে আখ্যা দিলেন “বিশ্বাসভিত্তিক কর ব্যবস্থা” হিসেবে। তাঁর মতে, এই সংস্কার দেশের উৎপাদন ও ভোগ উভয়কেই বাড়াবে এবং নাগরিক ও সরকারের মধ্যে তৈরি করবে এক “নতুন যুগের পারস্পরিক আস্থা”।
অমিত শাহ বলেন, “বিদ্যুৎ, সিমেন্ট, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, স্বাস্থ্যসেবা, বিমা, অটোমোবাইল, গাড়ি, ট্রাক, ট্রাক্টর এবং কৃষিতে ব্যবহৃত সব পণ্য সস্তা হবে। আজ থেকেই মানুষ এই সুবিধা পেতে শুরু করলেন। এই সিদ্ধান্ত উৎপাদন ও ভোগ বাড়াবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই বড় সিদ্ধান্তে মানুষ বিশ্বাস করবেন যে কর বাড়ানো সরকারের আয় বাড়ানোর জন্য নয়, বরং দেশ চালানোর জন্য। এবার ১৩০ কোটিরও বেশি নাগরিকের মনে সরকারের প্রতি আস্থা তৈরি হবে।”
অমিত শাহ জানান, জিএসটি সংগ্রহ বেড়ে ৮০,০০০ কোটি টাকা থেকে ২ লাখ কোটিতে পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, “এখন সময় এসেছে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার। ভবিষ্যতে এই অঙ্ক ২.৫ লাখ কোটিতেও পৌঁছনো সম্ভব। আপাতত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, কর সংগ্রহ বাড়ছে, আর মানুষ স্বস্তি পাবেন।”
বিরোধীদের আক্রমণ করে শাহ বলেন, “কিছু রাজনীতিক জিএসটিকে ‘ওয়েস্ট ট্যাক্স’ বলেছিলেন। পরে যখন সফল হল, তখন দাবি করলেন এটা তাঁদেরই ভাবনা। প্রণব মুখার্জি ও পি চিদম্বরম ভেবেছিলেন। কিন্তু দশ বছর ক্ষমতায় থেকেও বাস্তবায়ন করতে পারেননি। মোদিজি চতুর্থ বছরেই তা কার্যকর করেন।”
শাহ জানান, কংগ্রেস আমলে রাজ্যগুলো জিএসটির বিরোধিতা করেছিল। কারণ, ১৬ ধরনের বিক্রয়কর একীভূত হলে রাজস্ব কমতে পারত। তারা সাংবিধানিক গ্যারান্টি চেয়েছিল, যা কংগ্রেস দেয়নি। মোদি ক্ষমতায় এসে আলোচনায় ফেরেন এবং ১৪ শতাংশ বৃদ্ধির গ্যারান্টি মেনে নেন। গত নভেম্বরেই সেই গ্যারান্টি পূর্ণ হয়েছে। এর ফলেই জিএসটি অনুমোদন পেয়েছে এবং সফল হয়েছে।
২০১৭ সালে জিএসটি চালুর পর এটিই সবচেয়ে বড় সংস্কার। এখন থেকে ৫%, ১২%, ১৮% ও ২৮%— এই চার স্তরের পরিবর্তে থাকছে মাত্র দুটি হারের কাঠামো: ৫% এবং ১৮%।
নতুন কর কাঠামোয় সস্তা হবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিস, স্বাস্থ্য ও জীবনবিমা, গাড়ি, পরিবহন, ইলেকট্রনিক্স, গৃহস্থালি সামগ্রী, স্টেশনারি, সৌন্দর্য ও লাইফস্টাইল পরিষেবা, যন্ত্রপাতি। অত্যাধুনিক বিলাসপণ্যে করহার হবে ৪০%। তামাকজাত দ্রব্য থাকবে ২৮% কর + সেসের আওতায়।
অমিত শাহের দাবি, “নতুন জিএসটি কাঠামো শুধু স্বস্তি দেবে না, বরং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে আস্থার নতুন যুগে।”
