
হুগলি: আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও সরকারি চাকরির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুরের একটি সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে রাজ্য সরকারের তরফে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, প্রতিটি মৃত পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিক বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তিনি রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন বলেও জানান। তাঁর কথায়, মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার কাজ এখনও চলছে। দগ্ধ গোডাউন এলাকা থেকে তিনটি পোড়া কঙ্কাল-সহ মোট ১৬টি ঝলসে যাওয়া দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজের সংখ্যা ২৩ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ছাই থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনায় মঙ্গলবার গভীর রাতে গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, ওই গোডাউনে যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। রবিবার রাত ১টা নাগাদ আগুন লাগে এবং দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় দমকল বাহিনীকে। গোডাউনটি জলাশয় ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে কি না, ফায়ার অডিট কেন হয়নি—এসব নিয়েও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, ক্ষতিপূরণ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী এই ঘটনাকে ‘খুন’ বলে কটাক্ষ করেছেন এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। একই সঙ্গে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পুরো ঘটনার তদন্ত ও দায় নির্ধারণ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
