
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে নিরাপত্তায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন। গত কয়েক বছরে নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত গাড়ি ও চালকদের ওপর হামলার ঘটনা বারবার সামনে আসায় এবার প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করছে কমিশন। প্রতিটি নির্বাচনী গাড়িতে বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা, যা ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি নিশ্চিত করবে।
কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু সাধারণ ক্যামেরা নয়, কুইক রেসপন্স টিম (QRT)-এর গাড়িতেও বসানো হবে বিশেষ ধরনের প্যান-টিল্ট-জুম (PTZ) ক্যামেরা। এই ক্যামেরা নিজের অক্ষের চারদিকে ঘুরতে পারে, ওপর-নিচে নড়তে পারে এবং দূরের ছবিকেও জুম করে স্পষ্টভাবে ধরতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সাধারণ সিসিটিভির তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং কার্যকর।
এই ক্যামেরাগুলিকে আগে থেকেই প্রোগ্রামিং করে রাখা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা যায়। গাড়ির ভেতরেই থাকবে কন্ট্রোলার, যার মাধ্যমে ক্যামেরা পরিচালনা করা যাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ‘মাল্টি ভিউ’ ফিচার। অর্থাৎ, একটি ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ একসঙ্গে জেলা এবং রাজ্যের বিভিন্ন কন্ট্রোল রুমে দেখা যাবে। এমনকি নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা নজরদারি চালাতে পারবেন।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কোনও এলাকায় গোলমাল বা অশান্তি শুরু হলে এই ক্যামেরার মাধ্যমে দ্রুত দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। মুখ চিনে শনাক্তকরণ বা ‘ম্যান টু ম্যান মার্কিং’ প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজও সহজ হবে। গাড়ির ওপর হামলা বা সন্দেহজনক জমায়েত ধরা পড়লেই তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ করবে এই ‘চলন্ত সিসিটিভি’।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই পুলিশ ও প্রশাসনের নোডাল অফিসারদের কাছে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। বুথের ভিতরের পাশাপাশি বাইরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।
এই উদ্যোগ ভোটের সময় সহিংসতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর।
এই ‘চলন্ত চোখ’ সত্যিই ভোটের অশান্তি রুখতে পারবে কিনা, নাকি নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে আনবে?
