
ওড়িশায় শুটিং চলাকালীন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে টলিউডে তোলপাড়। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিশিষ্ট লেখিকা ও পরিচালক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর পক্ষ থেকে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে হয় এবং কোনও প্রকার ‘স্বার্থের সংঘাত’ বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ না ওঠে, সেই কারণেই তিনি পদত্যাগের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য, রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রাহুলের মৃত্যুতে এবার আইনি পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী তথা অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। সূত্র মারফত খবর, ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করতে চলেছেন তিনি। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও গাফিলতির অভিযোগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের উদ্যোগে আর্টিস্টস ফোরাম ও ফেডারেশনের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য- অভিযোগ উঠেছে, শুটিং চলাকালীন শুরু থেকেই অভিনেতা ও কলাকুশলীদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছিল। আবহাওয়ার সতর্কবার্তা বা বিপদের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও শুটিং চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সবথেকে চাঞ্চল্যকর দাবি, ড্রোন শট নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার দায় উল্টে মৃত অভিনেতা রাহুলের ওপরই চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
আর্টিস্টস ফোরাম এবং রাহুলের পরিবার এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেও, তদন্তের এক্তিয়ার নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। যেহেতু দুর্ঘটনাটি ওড়িশায় ঘটেছে, তাই তদন্ত ওড়িশা পুলিশ করবে নাকি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, তা নিয়ে আইনি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব গোটা টলিউড ইন্ডাস্ট্রি। লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের এই পদত্যাগ এবং প্রিয়াঙ্কা সরকারের আইনি পদক্ষেপের পর গোটা ঘটনাটি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে চলচ্চিত্র জগৎ।
