
উত্তর চব্বিশ পরগনার বাদুড়িয়ায় এক প্রাক্তন সেনা জওয়ানের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, দীর্ঘ তিরিশ বছর দেশের সেবা করা, কার্গিল যুদ্ধসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নেওয়া ওই জওয়ান আজ নিজের নাগরিক পরিচয় নিয়েই প্রশ্নের মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাদুড়িয়ার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা আজাদ আলি ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সদস্য। ১৯৯৫ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। কার্গিল যুদ্ধের সময় তিনি সীমান্তে দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সামরিক অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। সম্প্রতি সুবেদার পদে অবসরও নিয়েছেন তিনি।
কিন্তু অবসরের কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর জীবনে নেমে আসে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। ভোটার তালিকার সম্পূরক তালিকা প্রকাশের পর তিনি জানতে পারেন, তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে। শুধু তাঁরই নয়, পরিবারের আরও সদস্যের নামও তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, ২০০২ সাল থেকেই তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় ছিল এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিও তাঁদের কাছে রয়েছে। তবুও কীভাবে নাম বাদ পড়ল, তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন তাঁরা। বিষয়টি সামনে আসতেই এলাকায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।
আজাদ আলি নিজে এই ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করার পরও যদি নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থাটা আরও কঠিন। যাঁদের কাছে এত সরকারি নথি নেই, তাঁদের কী হবে সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক জানিয়েছেন, বিষয়টি দুঃখজনক হলেও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে। এখন যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন জানাতে হবে। সেই আবেদন যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী পক্ষের দাবি, এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি করছে। অন্যদিকে শাসকপক্ষের বক্তব্য, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই কাজ চলছে এবং যাঁদের নাম বাদ গেছে তাঁরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে সমস্যার সমাধান হবে।
দেশের জন্য লড়াই করা এক প্রাক্তন সেনার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঘটনায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও তার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন দেখার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগের কীভাবে সমাধান করে এবং ওই প্রাক্তন জওয়ান তাঁর অধিকার ফিরে পান কিনা।
