
ইসলামাবাদ: মধ্যপ্রাচ্যে চলা উত্তেজনার আবহে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনার লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ পর্যন্ত কোনও সমঝোতায় পৌঁছতে পারল না। তবে এই বৈঠক আয়োজনের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রবিবার নিজের সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প জানান, ইসলামাবাদের এই বৈঠক আয়োজন অত্যন্ত দক্ষ নেতৃত্বের পরিচয় বহন করে। তিনি দাবি করেন, শেহবাজ শরিফ ও আসিম মুনির তাঁর ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের কথায়, তাঁর হস্তক্ষেপেই নাকি গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছিল, যার ফলে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।
যদিও ভারত সরকার বারবার জানিয়েছে, কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই নিজেদের উদ্যোগেই তারা পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত এড়িয়েছে। এই বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও স্বীকার করেছেন যে, এই বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, মুনিরের অক্লান্ত প্রচেষ্টাতেই ইরান ও আমেরিকাকে আলোচনার টেবিলে আনা সম্ভব হয়েছিল, যা এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শনিবার শুরু হওয়া এই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশের উপরাষ্ট্রপতি জে ডি ভ্যান্স। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা বৈঠক সত্ত্বেও দুই পক্ষ কোনও সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রতিনিধি দল কোনও চুক্তি ছাড়াই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার জন্য আমেরিকা ইরানের পারমাণবিক নীতিকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, আমেরিকার দাবিগুলি ছিল অযৌক্তিক এবং একতরফা।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে। একাধিক হামলা ও পাল্টা হামলার জেরে ইতিমধ্যেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যদিও অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করা হয়েছিল, এই বৈঠকের ব্যর্থতার পর পরিস্থিতি আবার অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক আলোচনার বিকল্প নেই। তবে ইসলামাবাদের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় ভবিষ্যতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠল বলেই মনে করা হচ্ছে।
