
নয়াদিল্লিতে শুরু হতে চলা বিশেষ সংসদ অধিবেশনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করার কথা রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো মহিলা সংরক্ষণ বিল, ডিলিমিটেশন বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। তবে এই সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে লোকসভায় আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে।
সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভা ও বিধানসভার আসন পুনর্বিন্যাস করা। কিন্তু সাম্প্রতিক সূত্র অনুযায়ী, সেই পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন শুধুমাত্র পুনর্বিন্যাস নয়, বরং প্রতিটি রাজ্যের বর্তমান লোকসভা আসনের উপর প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করার প্রস্তাব সামনে আসতে পারে। যদিও এই বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিলে উল্লেখ নেই, তবে সংসদে বিল পেশের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আলাদা বিবৃতিতে এই প্রস্তাব ঘোষণা করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
এই প্রস্তাব কার্যকর হলে দেশের মোট লোকসভা আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে প্রায় ৮৫০-তে পৌঁছাতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বর্তমানে রাজ্যে ৪২টি লোকসভা আসন রয়েছে, যা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৬৩-তে দাঁড়াতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। একইভাবে তামিলনাড়ুর মতো দক্ষিণের রাজ্যগুলিতেও আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
তবে এই প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী দলগুলি তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার রাজনৈতিক সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে ইচ্ছামতো আসন সংখ্যা বাড়াতে চাইছে। বিশেষ করে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা, কারণ আগে বলা হয়েছিল ২০২৭ সালের জনগণনার পর এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
অন্যদিকে, মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিরোধীদের সমর্থন থাকলেও ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিল পাস করাতে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা অর্জন করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বর্তমানে এনডিএ জোটের হাতে ২৯৩টি আসন রয়েছে, যা এককভাবে বিল পাস করানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
আসন্ন সংসদ অধিবেশন শুধু আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেই নয়, বরং রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।
