
ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আলোচনায়, এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ঘিরে। রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতের জন্য দেওয়া বিশেষ ‘ছাড়’ প্রত্যাহার করেছে আমেরিকা, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পরও ট্রাম্পের কণ্ঠে শোনা গেল মোদীর প্রশংসা, যা কূটনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিটের একটি ফোনালাপ হয়। সেই কথোপকথনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “মোদী আমার খুব ভালো বন্ধু। উনি দারুণ কাজ করছেন। আমাদের কথা খুব ভালো হয়েছে।” যদিও কী বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দ্বৈত বার্তা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে আমেরিকা রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, অন্যদিকে ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার দিকেও নজর রাখছে। ফলে নীতিগত চাপ এবং কূটনৈতিক বন্ধুত্ব দুই-ই একসঙ্গে চালানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের মাঝে ভারতের জন্য রুশ তেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময়ে ভারত প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করেছে। এই তেলের বড় অংশই আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী হয়ে ভারতে পৌঁছায়। ফলে এই পথের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
কিন্তু মার্কিন প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে, রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে যে সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা আর বাড়ানো হবে না। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে এই তেল কেনা চালিয়ে গেলে বিভিন্ন দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর ফলে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর পক্ষ থেকে জানিয়েছেন, ফোনালাপে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ছাড়াও পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কারণ এই অঞ্চলেই এখন উত্তেজনা চরমে, এবং যে কোনও অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
একদিকে মার্কিন কঠোর অর্থনৈতিক অবস্থান, অন্যদিকে ব্যক্তিগত স্তরে সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তা এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা স্পষ্ট। তবে রুশ তেল নিয়ে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কতটা গভীর হবে এবং ভারত কী কৌশল নেয়, সেটাই এখন নজরকাড়া বিষয়।
