
ওয়াশিংটন: দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে আমেরিকায় বসবাস এবং দুই দশকের বেশি সময় ধরে আদালতে দোভাষীর কাজ করার পরও আটক হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মিনু বাত্রা। ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট-এর আধিকারিকরা তাঁকে বেআইনি অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে আটক করেছে বলে অভিযোগ।
৫৩ বছর বয়সী মিনু বাত্রা পাঞ্জাবি, হিন্দি ও উর্দু ভাষার স্বীকৃত আদালত-সনদপ্রাপ্ত দোভাষী। টেক্সাসের ইমিগ্রেশন কোর্টে দীর্ঘদিন ধরে পরিষেবা দিচ্ছিলেন তিনি। গত ১৭ মার্চ উইসকন্সিন-এ একটি সরকারি দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে আটক করা হয়।
জানা গিয়েছে, ১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গার পর ভারতে পরিবার হারিয়ে আমেরিকায় চলে আসেন মিনু। এরপর নিজের যোগ্যতায় পেশাগত জীবনে প্রতিষ্ঠা পান। তিনি একাই চার সন্তানের মা, যাঁদের সকলেই আমেরিকার নাগরিক। তাঁর এক ছেলে সম্প্রতি মার্কিন সেনাবাহিনীতেও যোগ দিয়েছেন।
মিনুর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, ২০০০ সালে জারি হওয়া একটি ‘রিমুভাল অর্ডার’। যদিও একই সঙ্গে আদালত তাঁকে ‘উইদহোল্ডিং অফ রিমুভাল’ মর্যাদা দেয়, যার অর্থ— ভারতে তাঁর জীবনের ঝুঁকি থাকায় তাঁকে সেখানে ফেরত পাঠানো যাবে না। তবে এই মর্যাদা তাঁকে স্থায়ী নাগরিকত্ব দেয় না এবং আইনি জটিলতার সুযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে মিনুকে টেক্সাসের এল ভ্যালে ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। তাঁর আইনজীবীরা আদালতে আবেদন জানিয়ে অভিযোগ করেছেন, আটকের পর দীর্ঘ সময় তাঁকে খাবার ও জল দেওয়া হয়নি এবং শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা পরিষেবা মেলেনি। তাঁরা অবিলম্বে তাঁর মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পেছনে কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাব দেখছেন অনেকে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই বেআইনি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। ফলে বহু বছর ধরে বসবাসকারী ও কর্মরত অভিবাসীরাও এখন আইনি জটিলতার মুখে পড়ছেন।
মিনু বাত্রার ঘটনা আমেরিকার অভিবাসন ব্যবস্থার জটিলতা ও মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁর আইনি লড়াইয়ের ফল কী দাঁড়ায়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
