
লন্ডন: বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা হরণের অভিযোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একাধিক ব্রিটিশ সংসদ সদস্য। লন্ডন-এর হাউস অব কমন্সে আয়োজিত এক বৈঠকে এই উদ্বেগের কথা সামনে আসে।
‘বাংলাদেশি ডায়াসপোরা ইন ইউকে’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আটজন এমপি অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন লেবার পার্টির এমপি জনাথন ব্রাশ। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন জেরেমি করবিন-সহ একাধিক সাংসদ।
আলোচনায় বক্তারা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের মতে, একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা বা তাদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে আওয়ামী লিগ-এর উপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
ব্রিটিশ এমপিরা বলেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। সকল রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষ যাতে স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ করা এবং বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতন বন্ধ করার আহ্বান জানান তাঁরা।
সভায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং তাঁদের উপর কোনও ধরনের চাপ বা নির্যাতন গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী। সংবাদমাধ্যম যাতে নির্ভয়ে কাজ করতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব বলেও মত প্রকাশ করেন তাঁরা।
এই বৈঠকে উপস্থিত সদস্যরা আন্তর্জাতিক স্তরে জনমত গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দেন তাঁরা।
এই ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
