
ত্রিপুরার স্বশাসিত জেলা পরিষদ (ADC) নির্বাচনে বড় সাফল্য পেল তিপ্রা মথা। মোট ২৮টি আসনের মধ্যে ২৪টিতে জয়ী হয়ে কার্যত বিজেপিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে তারা। এই ফলকে সরাসরি ‘জয়’ না বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে রাজনৈতিক বার্তা বলেই ব্যাখ্যা করলেন তিপ্রা মথা প্রধান প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা।
প্রদ্যোত বলেন, “এটা জয় নয়, এটা বার্তা।” তাঁর দাবি, যে রাজনৈতিক চুক্তির ভিত্তিতে তিপ্রা মথা বিজেপির সঙ্গে সমঝোতায় সরকারে অংশ নিয়েছিল, সেই চুক্তি এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। জনজাতি সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ না হওয়াতেই এই ভোটে ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটেছে বলে তাঁর বক্তব্য।
এডিসি নির্বাচনে বিজেপিকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানায় তিপ্রা মথা। ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায়, ২৮টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে মাত্র ৪টি আসন, যা রাজ্যে তাদের জন্য বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে একসময় শক্তিশালী অবস্থানে থাকা সিপিএম ও আইপিএফটি কোনও আসনই পায়নি।
প্রদ্যোত আরও জানান, এই ফল আসলে জনজাতি মানুষের অসন্তোষের প্রতিফলন। তাঁর মতে, কেন্দ্র যদি আগের চুক্তি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে তিপ্রা মথা। তিনি স্পষ্ট করে দেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, “আমরা অপেক্ষা করব কেন্দ্র কী পদক্ষেপ নেয়, বিশেষ করে অমিত শাহ কী ভূমিকা নেন। তারপরই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব—সরকারে থাকব নাকি বেরিয়ে আসব।”
এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে যদিও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি রাজ্যের শাসক জোটের ভেতরে চাপ বাড়াতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে ত্রিপুরায়। কিন্তু জনজাতি রাজনীতিতে তিপ্রা মথার উত্থান ক্রমশই রাজ্যের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। এডিসি নির্বাচনের ফল সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ভোট শুধু স্থানীয় প্রশাসনিক লড়াই নয়, বরং ত্রিপুরার বৃহত্তর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিকনির্দেশও বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
