
মধ্যপ্রাচ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। ভারতীয় পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নের ঝড় উঠেছে আন্তর্জাতিক মহলে। ঘটনার পর প্রকাশ্যে এসেছে একটি অডিও বার্তা, যেখানে জাহাজের এক নাবিকের কণ্ঠে শোনা গিয়েছে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ অনুমতি দেওয়ার পরও কেন আক্রমণ করা হল?
সমুদ্র চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা একটি প্রায় তিরিশ সেকেন্ডের অডিও প্রকাশ করে। সেই অডিওতে ‘সানমার হেরাল্ড’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজের নাবিককে ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে শোনা যায়। নাবিক স্পষ্টভাবে জানান, তাঁদের জাহাজকে আগেই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং অনুমোদিত তালিকাতেও নাম ছিল। তবু আচমকাই গুলি চালানো হয়। তিনি বারবার অনুরোধ করেন, জাহাজটিকে নিরাপদে ফিরে যেতে দেওয়া হোক।
এই অডিও প্রকাশ্যে আসার পরেই ঘটনাটির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক মহলের পাশাপাশি ভারতেও উদ্বেগ বাড়ে। প্রশ্ন উঠছে, যদি আগে থেকেই অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে হঠাৎ এই হামলার কারণ কী?
ঘটনাটি ঘটে ওমান উপকূল সংলগ্ন এলাকায়। জানা গেছে, ভারতীয় দু’টি জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। যদিও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবুও জাহাজ দু’টিকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। এর ফলে সাময়িকভাবে বাণিজ্যিক সমুদ্রপথে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের তরফে সম্পর্কের ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ এবং অতীতে এই সম্পর্কের ফলে সমুদ্রপথে যাতায়াত ও বাণিজ্যে ভারত লাভবান হয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে তারা স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি। বরং জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধান করা হবে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হওয়ায় এখানে সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
পুরো ঘটনাকে ঘিরে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। অডিও বার্তা নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এটি কি ভুল বোঝাবুঝি, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কৌশল কাজ করছে? আপাতত সেই উত্তর খুঁজছে আন্তর্জাতিক মহল।
