
নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভ ঘিরে ছড়ানো ব্যাপক অশান্তির ঘটনায় অবশেষে মূল অভিযুক্ত আদিত্য আনন্দকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শনিবার তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লি রেলস্টেশন থেকে উত্তরপ্রদেশ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) তাঁকে আটক করে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পলাতক ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩-১৪ এপ্রিল নয়ডা ও গ্রেটার নয়ডার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ হঠাৎ করেই সহিংস রূপ নেয়। একাধিক জায়গায় ভাঙচুর, রাস্তা অবরোধ এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে। তদন্তকারীদের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে পরিকল্পিত উস্কানি ছিল এবং সেই সূত্রেই আদিত্য আনন্দকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালত জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট জারি করেছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে এক লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর দিল্লি-এনসিআর, উত্তরপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু জুড়ে ব্যাপক তল্লাশি শুরু হয়।
পুলিশের দাবি, আদিত্য একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে শ্রমিকদের মধ্যে প্ররোচনা ছড়াতেন। কিউআর কোড ব্যবহার করে মানুষকে ওই গ্রুপগুলিতে যুক্ত করা হত বলে অভিযোগ। পাশাপাশি বিক্ষোভের সময় তিনি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।
বিক্ষোভের দিনগুলিতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার শ্রমিক বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় নেমেছিলেন বলে প্রশাসনের অনুমান। এর ফলে একাধিক এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
তদন্তে আরও জানা যাচ্ছে, কিছু বহিরাগত ব্যক্তিও এই আন্দোলনে যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার পেছনে কোনও সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
গ্রেফতারের পর এখন আদিত্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানতে চাইছে, কীভাবে এত বড় পরিসরে মানুষকে সংগঠিত করা হল এবং কারা এর পেছনে আরও যুক্ত থাকতে পারে।
প্রশাসনের মতে, এই গ্রেফতার নয়ডা বিক্ষোভের তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এখন মূল লক্ষ্য, পুরো ঘটনার নেপথ্যের নেটওয়ার্ক এবং পরিকল্পনার উৎস খুঁজে বের করা।
