
পহেলগাম জঙ্গি হামলাকে শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ভারতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। সম্প্রতি পেশ করা ১,৫৯৭ পাতার চার্জশিটে সংস্থা দাবি করেছে, এটি পাকিস্তানের মদতপুষ্ট ‘ছায়াযুদ্ধ’-এর একটি ধারাবাহিক অধ্যায়, যা গত আড়াই দশক ধরে ভারতের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে।
এনআইএ-র চার্জশিট অনুযায়ী, পহেলগাম হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও এক স্থানীয় নাগরিক নিহত হন। এই ঘটনায় প্রথমবারের মতো ‘ভারতবিরোধী যুদ্ধ চালানো’ বা ‘Waging war against India’ ধারার প্রয়োগ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এটি শুধু সন্ত্রাসবাদ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আক্রমণ।
চার্জশিটে লস্কর-ই-তইবা এবং তাদের সহযোগী সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর সাতজন সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাজিদ জাটকে মূল হ্যান্ডলার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন জঙ্গির নাম উঠে এসেছে, যাদের মধ্যে কেউ কেউ আগের ‘অপারেশন মহাদেব’-এ নিহত হয়েছিল।
এনআইএ দাবি করেছে, ২০০১ সালের সংসদ ভবন হামলা, ২০০৬ সালের মুম্বই ট্রেন বিস্ফোরণ, ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই হামলা, ২০১৬ সালের উরি ও পাঠানকোট হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা বিস্ফোরণ, সবগুলির পেছনেই পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠনগুলির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, এখন সন্ত্রাসবাদ শুধু সীমান্ত পেরিয়ে আক্রমণ নয়, বরং ‘হাইব্রিড মডেল’-এ স্থানীয় সহযোগীদের ব্যবহার করে হামলা চালানো হচ্ছে। এর লক্ষ্য শুধু প্রাণহানি নয়, বরং কাশ্মীরের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করা।
চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, ভারতের বিরুদ্ধে এই ধরনের কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চললেও বর্তমানে তা নতুন রূপ নিয়েছে। প্রযুক্তি, অর্থ এবং স্থানীয় নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনা আরও জটিল করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, এই চার্জশিট আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্ত করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একাধিক অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে এনআইএ।
