
ওয়াশিংটন: সমুদ্রের মাঝখানে দীর্ঘদিন কাটানো সহজ নয়, বিশেষ করে হাজার হাজার নাবিকের খাবারের ব্যবস্থা করা হলে। সেই কারণেই ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর মতো মার্কিন যুদ্ধজাহাজে নির্দিষ্ট চক্রে একই খাবারের তালিকা ঘোরানো হয়—প্রতি ২১ দিন অন্তর।
মার্কিন নৌবাহিনী-র এই বিশাল বিমানবাহী রণতরীতে প্রতিদিন প্রায় ৫,১০০ নাবিক ও বিমানকর্মীর জন্য রান্না করা হয়। মোট খাবারের সংখ্যা দিনে প্রায় ১৭ হাজারেরও বেশি। এত বড় সংখ্যার মানুষের জন্য নিয়মিত ও সুষম খাবার নিশ্চিত করতে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২১ দিনের এই মেনু চক্র মূলত সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। সমুদ্রে থাকা অবস্থায় নির্দিষ্ট সময় অন্তর খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হয়, সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের ব্যবধানে। এই সরবরাহের উপর ভিত্তি করেই খাবারের তালিকা তৈরি করা হয়, যাতে কোনও অপচয় না হয় এবং প্রয়োজনীয় সব উপকরণ সঠিক পরিমাণে মজুত রাখা যায়।
এর পাশাপাশি জাহাজে জায়গার সীমাবদ্ধতাও একটি বড় কারণ। আগে প্রায় ১২০০ ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হলেও এখন তা কমিয়ে প্রায় ৫০০-র মধ্যে রাখা হয়েছে। ফলে সংরক্ষণ সহজ হয়েছে এবং পরিকল্পনাও আরও নির্ভুল হয়েছে।
পুষ্টির দিক থেকেও এই মেনু অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হয়। প্রতিদিন একজন পুরুষ নাবিকের জন্য গড়ে প্রায় ২৮৫০ ক্যালোরি এবং মহিলাদের জন্য প্রায় ২১০০ ক্যালোরি নির্ধারিত থাকে। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি বজায় থাকে, বিশেষ করে দীর্ঘ সময় কাজ করার জন্য।
জাহাজের রান্নাঘর কখনও বন্ধ থাকে না ২৪ ঘণ্টাই কাজ চলে। কারণ নাবিকরা বিভিন্ন শিফটে কাজ করেন। রাতের শিফটের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থাও থাকে, যাকে বলা হয় “মিডর্যাটস”।
সম্প্রতি কিছু প্রতিবেদনে খাবারের অভাবের কথা উঠলেও, মার্কিন নৌবাহিনী তা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, জাহাজে পর্যাপ্ত খাবার রয়েছে এবং সকলের জন্য নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এই নির্দিষ্ট মেনু চক্র শুধু সুবিধার জন্য নয়, বরং দক্ষতা, পুষ্টি ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
