
ভোট পরবর্তী হিংসা ঠেকাতে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিল কলকাতা পুলিশ। স্পষ্ট ভাষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। তিনি জানিয়ে দিলেন, কোনও ধরনের অশান্তি, উস্কানি বা বেআইনি কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না।
সাংবাদিক বৈঠকে অজয় নন্দা বলেন, মিছিলে যদি কেউ জেসিবি বা ভারী যন্ত্রপাতি ভাড়া দেয়, তাহলে শুধু ব্যবহারকারী নয়, মালিকদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনার ঝড় উঠেছে।
তিনি আরও জানান, নিউমার্কেট এলাকায় সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় বুলডোজার ব্যবহারের কারণে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
অজয় নন্দা স্পষ্ট করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং কোথাও কোনও ধরনের অবহেলা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে।
বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৬৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ কমিশনার বলেন, “সুরক্ষার জন্য যা যা প্রয়োজন, সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনও নাগরিক যেন আতঙ্কিত না হন।”
তিনি আরও জানান, ভোটের পর কিছু এলাকায় অশান্তির চেষ্টা হলেও ইতিমধ্যেই ৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তাঁর দাবি, পুরো ভোট প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন লক্ষ্য শান্তি বজায় রাখা।
সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, কোনও গুজবে কান না দিয়ে সরাসরি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। হিংসা বা ভয় ছড়ানোর চেষ্টা হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার, এই জিরো টলারেন্স নীতি মাঠে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হয়।
