
চেন্নাই: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় চমক। বিপুল জনসমর্থন ও নির্বাচনী সাফল্যের পরও সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়। বুধবার তিনি তাঁর দল টিভিকে-র পক্ষ থেকে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানান। তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তাঁর দাবি খারিজ করে দেন রাজ্যপাল।
সূত্রের খবর, বিজয় রাজভবনে গিয়ে মোট ১১২ জন বিধায়কের সমর্থনের তালিকা পেশ করেন। কিন্তু তামিলনাড়ুর বিধানসভায় সরকার গঠন করতে অন্তত ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। সেই কারণে রাজ্যপাল তাঁকে স্পষ্টভাবে জানান, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত সরকার গঠনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। বিজয়কে আরও বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করে পুনরায় দাবি পেশ করতে বলা হয়েছে।
২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় বিজয়ের দল টিভিকে এককভাবে ১০৮টি আসন পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য আরও অন্তত ১০ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই টিভিকে-কে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা করেছে, তবে তাদের দখলে রয়েছে মাত্র ৫টি আসন। ফলে এখনও অন্তত ৫ থেকে ৬ জন বিধায়কের সমর্থন ঘাটতি রয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে। জানা যাচ্ছে, বিজয় নিজে দুটি আসনে জয়ী হয়েছেন, যার মধ্যে একটি আসন তাঁকে ছাড়তে হবে। অন্যদিকে বিভিন্ন ছোট দল ও নির্দল বিধায়কদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
এদিকে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল AIADMK-তে ইতিমধ্যেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। কয়েকজন বিধায়ক প্রকাশ্যে টিভিকে-কে সমর্থন জানাচ্ছেন বলে খবর। তবে কংগ্রেস শর্ত দিয়েছে, টিভিকে যেন কোনওভাবেই এনডিএ বা তাদের শরিকদের সঙ্গে জোট না বাঁধে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরিস্থিতিতে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন আপাতত অনিশ্চিত। শোনা যাচ্ছিল, আগামী ৮ মে তিনি শপথ নিতে পারেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে সেই সম্ভাবনা কার্যত ভেস্তে যেতে পারে।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত বিজয় প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করে সরকার গঠন করতে পারেন কিনা।
