
দেশের রাষ্ট্রীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবার থেকে ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-এর সমমর্যাদায় গণ্য করা হবে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ‘ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট’-এর সংশোধনের মাধ্যমে বন্দে মাতরমকে একই আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে, যা আগে শুধুমাত্র জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় গীতকে অসম্মান করলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত জেল এবং আর্থিক জরিমানার বিধান থাকবে।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই জানুয়ারি মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক। এখন সেই অবস্থান আরও কঠোর করা হলো।
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, সরকারি অনুষ্ঠানে যদি ‘জনগণমন’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ একসঙ্গে পরিবেশিত হয়, তাহলে প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। শুধু তাই নয়, গান পরিবেশনের সময় উপস্থিত সকলকে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানাতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।
সরকারি মহলের বক্তব্য, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গান ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের আবেগ ও জাতীয়তাবাদের প্রতীক। তাই এটিকে জাতীয় মর্যাদায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক বলে দাবি করছে কেন্দ্র।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের একাংশের মতে, এটি সাংস্কৃতিক প্রতীককে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা। তবে শাসকদলের মতে, এটি ভারতের ঐতিহ্য ও দেশভক্তির প্রতি সম্মান বৃদ্ধির পদক্ষেপ।
বিজেপির সাম্প্রতিক বাংলায় নির্বাচনী সাফল্যের পর এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেও মনে করছেন। বিশেষ করে সংসদে এবং কেন্দ্রীয় বৈঠকে এই ইস্যু নিয়ে আলোচনার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
এখন প্রশ্ন একটাই,এই সিদ্ধান্ত দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে নতুন অধ্যায় যোগ করবে, নাকি শুরু করবে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক? উত্তর দেবে আগামী সময়।
