
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। মঙ্গলবার কালীঘাটে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ১১ জন জয়ী বিধায়ক অনুপস্থিত থাকায় নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিরোধী দলনেতা কে হবেন তা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নির্বাচনের পরবর্তী কৌশল ঠিক করতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বিকেল চারটেয় কালীঘাটে বৈঠক শুরু হয় এবং দলের সব জয়ী বিধায়ককে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। তবে মোট ৮০ জন জয়ী প্রার্থীর মধ্যে ১১ জন অনুপস্থিত থাকেন।
এই অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—নির্বাচনী ফলাফলের পর কি তৃণমূলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে? নাকি এর পেছনে রয়েছে সংগঠনগত বা ব্যক্তিগত ব্যস্ততা? যদিও দলীয় নেতৃত্বের একাংশের দাবি, অনুপস্থিত বিধায়করা বিভিন্ন এলাকায় ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি সামলাতে ব্যস্ত থাকতে পারেন।
বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনা তৃণমূলের অন্দরে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
অন্যদিকে, বৈঠকের আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগ করছেন না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি কেন ইস্তফা দিতে যাব? জোর করে কিছু করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, আমরা নির্বাচনে হারিনি।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের রায়কে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতিকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কালীঘাট বৈঠকে ১১ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি নিছক প্রশাসনিক বিষয় নাকি দলের ভেতরের গভীর অসন্তোষের ইঙ্গিত—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এদিকে বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব আপাতত বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে সংগঠনকে পুনর্গঠনের দিকেই নজর দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
নির্বাচনের পর রাজ্যের শাসকদলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ যে এখনও স্থিতিশীল হয়নি, কালীঘাট বৈঠকের এই অনুপস্থিতি তা আরও একবার সামনে নিয়ে এল।
