
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিপুল জয়ের পর বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি নিতিন নবীনকে ফোন করে অভিনন্দন জানান তিনি। পাশাপাশি শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন শুভেন্দু অধিকারী এবং শমীক ভট্টাচার্য-কেও।
আওয়ামী লিগ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপির তরফে বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শিশির বাজোরিয়ার কাছেও শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ইতিমধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছে। সেই পরিস্থিতিতে তাঁকে আলাদা করে অভিনন্দন জানানোর ঘটনাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে আসেন। সেই সময় একাধিকবার প্রকাশ্যে শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বৈধ প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁকে জোর করে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ভারত তাঁকে অতিথি হিসেবে আশ্রয় দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই অবস্থানের কারণেই শুভেন্দুর প্রতি বিশেষ বার্তা দিতে চেয়েছেন হাসিনা।
অন্যদিকে, নিতিন নবীন বিজেপির সভাপতি হওয়ার পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে শুভেচ্ছা জানালেন আওয়ামী লিগ সভানেত্রী। সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লিগের অন্দরে আলোচনা চলছিল কীভাবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। অবশেষে নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়।
এদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের তরফেও বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলেছে। গত মাসে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লি সফরে এসে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা হুমায়ুন। তাঁর হাত দিয়েই নিতিন নবীনের কাছে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
একসময় শেখ হাসিনা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ব্যক্তিগত সম্পর্ক যথেষ্ট উষ্ণ ছিল। তবে তিস্তা জল চুক্তি নিয়ে মতবিরোধের পর সেই সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের তরফে পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।
