গোটা গাজা জুড়ে যখন একটু খাবার আর চিকিৎসা পেয়ে বেঁচে থাকার হাহাকার, ঠিক তখনই কি ইজরায়েলকে হামাস নিধনের ছাড়পত্র দিয়ে দিলেন ট্রাম্প? গাজা নিয়ে যুদ্ধবিরতির আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে এখন তোলপাড় গোটা বিশ্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন “ইজরায়েলকে শেষ কাজটা করে ফেলতেই হবে”।
কিন্তু কী সেই শেষ কাজ? আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন সেটা হল গাজা দখলে ইজরায়েলের পথে কাঁটা হামাসকে একেবারে খতম করে ফেলা। গাজা অঞ্চলের শাসন ক্ষমতা তাদের হাতে থাকলেও হামাসের পরিচিতি জঙ্গি সংগঠন হিসেবেই। পাশাপাশি থাকা ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইনের সঙ্কট আজকের নতুন নয়। তবে ৭ অক্টোবর ২০২৩ হামাসের নেতৃত্বে ইজরায়েলের উপর হামলার পরেই পালটে যায় পরিস্থিতি।এই হামলায় এক দিনে ৮৬৯ ইজরায়েলি সাধারণ নাগরিক এবং কমপক্ষে ৩৪৯ ইজরায়েলি সৈন্য ও পুলিসের মৃত্যু হয়। পণবন্দি করা হয় প্রায় ২৫০ জনকে। এর বদলা নিতে গাজা আক্রমণ করে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সেনা। সেই চলছে। গাজা থেকে হামাসকে লির্মূল করার ঘোষণা অনেক আগেই দিয়ে দিয়েছে ইজরায়েল।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
এদিকে আন্তর্জাতিক চাপে গাজায় যুদ্ধ থামাতে বারবার বৈঠকে বসেছে দু’পক্ষ। সঙ্গে থেকেছেন মধ্যস্থতাকারীরা। কিন্তু যুদ্ধ থামিয়ে বন্দি আদানপ্রদানের সিদ্ধান্ত হলেও দু’ পক্ষের কারণেই বারবার ভেস্তে গেছে সেই শান্তিকল্যাণ পরিস্থিতি।এবারও হামাস রাজি না হওয়ায় ভেস্তে গেছে গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা। এর পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার দাবি করেন, হামাস আদৌ যুদ্ধবিরতি চায়নি। ট্রাম্প জানান, “এটা খুব দুঃখজনক। হামাস আসলে কোনও সমঝোতা চাইছিল না। আমার মনে হয় ওরা মরতে চায়।” এএনআই সুত্র উল্লেখ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। হামাস যুদ্ধবিরতি চাইছে না এমন অভিযোগ তোলার পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প বিস্ফোরক মন্তব্য “ইজরায়েলকে শেষ কাজটা করে ফেলতেই হবে”। অর্থাৎ ইজরায়েলকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বার্তা – লড়াই করেই হামাস-সাফ করতে হবে। এখন যুদ্ধই একমাত্র পথ।
আরও পড়ুন
আর এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন কেউ কেউ। গাজায় এমনিতেই হামাসের সঙ্গে ইজরায়েলের লড়াইয়ের দাম জীবন দিয়ে চোকাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। লাগাতার মিসাইল, বোমা হামলা, গোলাগুলির পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে অনাহার আর অপুষ্টি। ইজরায়েলের অবরোধের জেরে না খেতে পেয়েই মারা যাচ্ছে শিশুদের পাশাপাশি গাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। এমন অবস্থায় আমেরিকা-ইজরায়েলের হামাসকে সাফ করার খেলায় সাধারণ মানুষ কেউ বেঁচে থাকবে কি না, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
