দিল্লি হাইকোর্টের যে প্রাক্তন বিচারপতির ইনপিচমেন্ট নিয়ে তত্পরতায় খনখড়-অপসারণ বলে বিরোধীদের একাংশের দাবি, সেই জাস্টিস যশোবন্ত ভার্মাকে তিরস্কার করল সুপ্রিম কোর্ট। এই মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টের অভ্যন্তরীণ কমিটির রিপোর্টে যথেষ্ট বিপাকে এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি। এই তদন্ত রিপোর্ট খারিজের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
দিল্লিতে নিজের বাড়িতে আগুন লাগার পর বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয় দিল্লি হাইকোর্টের তত্কালীন বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মার বাড়ি থেকে। আগুন নেভাতে গিয়ে উদ্ধার হয় রাশি রাশি পোড়া নোট। স্বভাবতই চাঞ্চল্য ছড়ায়। তৈরি হয় জল্পনা। বিতর্কের মধ্যে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলি করা হয় বিচারপতিকে। পাশাপাশি এই কাণ্ডে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করে সুপ্রিম কোর্ট।
গত ৩ মে ওই অনুসন্ধান কমিটি একটি মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দেয় শীর্ষ আদালতে। ওই সময় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন সঞ্জীব খন্না। সেই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে বিচারপতি ভার্মার ইমপিচমেন্টের সুপারিশ করা হয়। ওই সুপারিশ খারিজের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টেরই দ্বারস্থ হয়েছেন বিচারপতি ভার্মা।
মঙ্গলবারও এই ইস্যুতে শুনানি ছিল। বুধবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহর বেঞ্চে বিচারপতির হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি যুক্তি দেন, “সুপ্রিম কোর্টের অভ্যন্তরীণ কমিটির এক্তিয়ার নেই কোনও বিচারপতির অপসারণ সুপারিশ করার’’। তিনি একে সংবিধানবিরোধী পদক্ষেপ বলেও অভিহিত করেন। এছাড়াও তিনি জানান, তদন্ত চলাকালীন বিচারপতি ভার্মাকে নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তার উত্তরে বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, প্রধান বিচারপতির ভূমিকা শুধু ‘চিঠি পাঠানোর’ মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেন, “চিফ জাস্টিস অফ ইন্ডিয়ার দফতর কোনও পোস্ট অফিস নয়। বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে, তাঁর জাতির প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। কোনও অভিযোগ বা তথ্য এলে, সেটি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে জানানো তাঁর কর্তব্য।” বিচারপতি দত্ত আরও বলেন, “চিফ জাস্টিস অফ ইন্ডিয়ার সুপারিশ সংসদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। সংসদই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।” তবে এদিন বেঞ্চ সব শুনে রায়দান সংরক্ষিত রেখেছে।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
