
বৃহস্পতিবার দুর্গাপূজা প্রতিমা বিসর্জন সংক্রান্ত কয়েকটি পৃথক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের খণ্ডওয়া এবং শাহডোল জেলায়। খণ্ডওয়ার পান্ধানা এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা।একটি ট্র্যাক্টর-ট্রলিতে দুর্গা প্রতিমা এবং প্রায় ২০-২৫ জন গ্রামবাসী মিলে নিয়ে যাওয়ার সময় সেটি একটি পুকুরে উল্টে যায়। এই দুর্ঘটনায় ১১ জনের জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। যাদের মধ্যে কয়েকজন মহিলা ও শিশু রয়েছে। জানা গেছে, ঘটনাটি পান্ধানা থানার অন্তর্গত জামলি গ্রামের কাছে বিকেল ৫টা নাগাদ ঘটে। ১১টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এসডিআরএফ দল জলে তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইজি ইন্দোর (গ্রামীণ) অনুরাগ। এই দুর্ঘটনায় তিনজন এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আধিকারিকরা আশঙ্কা করছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিদের বয়স ৯ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে, যার মধ্যে ছয়জন যুবতী এবং সবচেয়ে কম বয়সি একজন ৯ বছরের ছেলে রয়েছে।প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ট্র্যাক্টর চালক সম্ভবত বাঁধের জলের গভীরতা বুঝতে না পেরে ধীরে ধীরে ঢাল বেয়ে নামার চেষ্টা করেছিলেন, যার ফলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ১১ জনের পরিবারের জন্য ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব।খণ্ডওয়া জেলারই আঞ্জানগাঁও গ্রামে ঘটেছে আরও একটি দুর্ঘটনা। সেখানে একটি ডিজে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি শোভাযাত্রার ওপর উঠে যায়। তাতেই ৩০ বছর বয়সি রামদেব চৌহান নামের একজন মারা যান এবং আরও চারজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে যায়। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।এদিকে, প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে শাহডোলের গোহপারু এলাকায় সন নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার সময় শুভম গোন্দ (১৬) এবং হনুমত লাল (২২) নামে দুই যুবক ডুবে মারা যান।এছাড়াও উজ্জয়িনী জেলা থেকেও চম্বল নদীতে ডুবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৃতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন সদস্য, যার মধ্যে একটি ১২ বছর বয়সি এক নাবালক ছিল।
