
লোকসভা ভোটের আবহে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে সুর আরও চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তাঁর দলের তরফে কমিশনের বিরুদ্ধে ‘হোয়াট্সঅ্যাপ নির্দেশিকা’র অভিযোগ তোলার পর, এদিন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়ির তল্লাশি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল নেত্রী।
এদিন দমদম বিমানবন্দরে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজ দমদম বিমানবন্দরে আমার গাড়ির কাছেও এসেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। আমি বললাম, চেক করো, আমি চাই তোমরা চেক করো। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তৃণমূলের সব নেতার গাড়িতে তল্লাশি হলে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা বিজেপির নেতাদের গাড়িতে কেন হবে না? কেন সিআরপিএফ-এর গাড়ি তল্লাশি হবে না? শুধু তৃণমূলের বেলায় কেন এই নিয়ম?” নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সাফ জানান, এভাবে একতরফা ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন একটি গোপন হোয়াট্সঅ্যাপ নির্দেশের মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালানোর কথা বলেছে। দলের প্রকাশিত দুটি স্ক্রিনশট অনুযায়ী, কমিশন সন্দেহ করছে যে অভিষেকের স্ত্রীর মাধ্যমে টাকা পাঠানো হতে পারে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তৃণমূলের মন্ত্রী ও নিরাপত্তা পাওয়া প্রভাবশালী নেতাদের গাড়ি চেকিং পয়েন্টগুলোতে ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি শাসকদলের।
তৃণমূলের দাবি করা ওই স্ক্রিনশট অনুযায়ী, নদিয়া, বসিরহাট, ডায়মন্ড হারবার-সহ একাধিক জেলায় আয়োজিত রক্তদান শিবির ও মেডিকেল ক্যাম্পগুলোর ওপরও কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। কমিশনের আশঙ্কা, এই সব শিবিরের আড়ালে টাকা বিলি হতে পারে। তৃণমূলের মতে, তাদের জনসংযোগমূলক কর্মসূচিগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিশানা করতেই এই পদক্ষেপ।
