
ভোট শেষ হতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি। ফল প্রকাশের পরই দুই রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সংঘর্ষে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হলেন ন্যাজাট থানার ওসি সহ একাধিক পুলিশকর্মী এবং সিআরপিএফ জওয়ানরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতের দিকে সন্দেশখালির রাজবাড়ি এলাকায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ, একটি বাড়িতে ভাঙচুর চলছিল এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আচমকাই তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
এই হামলায় ন্যাজাট থানার ওসি ভরত প্রসূন পুরকায়েত পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। পাশাপাশি এক মহিলা কনস্টেবলসহ আরও দুই পুলিশকর্মী এবং দুই সিআরপিএফ জওয়ান আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে এবং পরে বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল, ভোট শেষ হলেও ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। সেই বাহিনী থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের ঘটনা সামনে আসায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে।
রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের তরফে বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভাঙচুর, হিংসা এবং উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না।
এখন গোটা রাজ্যের নজর সন্দেশখালির দিকে পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই দেখার।
