রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মাঝে ভারত সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণেই তাঁর এই সফরের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হচ্ছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সম্প্রতি জানিয়েছেন, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতেই এই সফর হতে চলেছে। যদিও পুতিন কবে ভারতে আসবেন, তা নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মস্কো সফরের সময় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এবার সেই আমন্ত্রণের জবাব দিতে ভারত আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুতিন। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘তাস’ জানিয়েছে, এই সফর দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতাই বাড়াবে না, বরং বৈশ্বিক রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেই বন্ধনকে আরও মজবুত করবে। যদিও সফরের নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ হয়নি, তবে ২০২৪ সালে এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
মোদী দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফর করেছিলেন রাশিয়ায়। সেই সফরের স্মৃতি টেনে এনে লাভরভ বলেন, এবার পালা রুশ রাষ্ট্রপ্রধানের। তাঁর মতে, ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে গভীর এবং এই সফর সেই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।
তবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পুতিনের ভারত সফর আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ইউক্রেন সংঘাতের কারণে আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবুও ভারত কূটনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন অধিবেশনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট না দিয়ে ভারত বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে সওয়াল করেছে।
অন্যদিকে, আমেরিকার আপত্তি সত্ত্বেও ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি, মোদী একমাত্র রাষ্ট্রনেতা, যিনি রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই দেশেই সফর করে শান্তি আলোচনার পথ খোলার চেষ্টা করেছেন।
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও এই বৈঠক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের মৈত্রী আরও গভীর হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময়ে এই সাক্ষাৎ কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ইউক্রেন সংঘাতের মধ্যেও দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। তাই এই সফর শুধু রাজনৈতিক সম্পর্ক নয়, অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
Leave a comment
Leave a comment
