ভারতের বুকে কি হিরের খনি রয়েছে? এই মুহূর্তে উত্তরটা ‘না’, তবে এই উত্তর বদলানোর সময় হয়তো এসে গিয়েছে। কারণ এবার এমন এক জায়গার সন্ধান পাওয়া গেল, যেখানে মাটি খুঁড়লেই বেরিয়ে আসছে একের পর এক হিরে-জহরত। সম্প্রতি ছত্তিশগড়ের মহাসমুন্দ জেলায় পাঁচটি হিরের সন্ধান মিলেছে। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া এই মূল্যবান খনিজকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলে। তাঁদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু একটি পৃথক সাফল্য নয়, বরং গোটা অঞ্চলে বৃহত্তর হিরের ভাণ্ডার থাকার সম্ভাবনাকেও আরও জোরালো করে তুলেছে।

জানা গিয়েছে, মহাসমুন্দ জেলার বালোদা-বেলমুন্ডি ব্লকে দীর্ঘদিন ধরে নতুন খনিজ সম্পদের সন্ধানে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছিল। অবশেষে ২০০ টন খনিজ উপাদান প্রক্রিয়াজাত করার পর পাঁচটি হিরে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া হিরেগুলির মোট ওজন ১.২২ ক্যারেট। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পাঁচটির মধ্যে দু’টি অপেক্ষাকৃত উন্নত মানের হিরে। যার একটি ০.১৯ ক্যারেট এবং অন্যটি ০.০৬ ক্যারেট ওজনের। বাকি তিনটি হিরে অন্য শ্রেণিভুক্ত হলেও তাদের উপস্থিতি গোটা এলাকার ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে হিরেগুলি নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী মূল্যায়নের কাজ চলছে।

ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হিরে কাটা ও পালিশ করার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বাস্তবে অপরিশোধিত হিরের চাহিদা মেটাতে দেশকে এখনও বিপুল পরিমাণ আমদানির উপর নির্ভর করতে হয়। ফলে দেশের অভ্যন্তরে নতুন হিরের উৎসের সন্ধান পাওয়া অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বহুবার ভারতকে আন্তর্জাতিক হিরে ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে মহাসমুন্দে এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদি এই অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হারে হিরে উত্তোলন সম্ভব হয়, তাহলে তা শুধু দেশের রত্ন ও গয়না শিল্পকেই শক্তিশালী করবে না, ছত্তিশগড়ের অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে সতর্কতাও শোনাচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, পাঁচটি হিরে উদ্ধার হওয়া নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক হলেও শুধুমাত্র এই তথ্যের ভিত্তিতে গোটা অঞ্চলকে বাণিজ্যিক খননের জন্য লাভজনক বলে ঘোষণা করা সম্ভব নয়। তার জন্য আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি অনুসন্ধান প্রয়োজন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মহাসমুন্দের প্রতিবেশী জেলা গারিয়াঁবন্দের মাইনপুর এলাকাতেও অতীতে হিরের সন্ধান মিলেছিল। ফলে এই সমগ্র অঞ্চলটিকেই এখন নতুন করে খতিয়ে দেখছেন ভূতত্ত্ববিদ এবং খনিজ বিশেষজ্ঞরা।