কলকাতা: কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে এই সংক্রান্ত আবেদন দায়েরের অনুমতি মেলে। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, আগামী সোমবার মামলার শুনানি হবে।

এই মামলার সূত্রপাত নির্বাচনী প্রচারের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। প্রচারের মঞ্চে তিনি বলেছিলেন, “৪ তারিখ ডিজে বাজবে।” সেই বক্তব্যকে ঘিরেই বিধাননগর সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ভিডিও, ফেসবুক লিঙ্ক এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মামলার কেস ডায়েরিও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।

তদন্তের অগ্রগতির অংশ হিসেবে বিধাননগর আদালত আগামী ৩০ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সেদিন ম্যাজিস্ট্রেট এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই বুধবার রাতে সিআইডির একটি দল অভিষেকের কালীঘাটের বাসভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিস প্রদান করে।

তবে এই নির্দেশের বৈধতা নিয়েই এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক। আদালতে তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে জানানো হয়, তিনি কখনও অস্বীকার করেননি যে তদন্তে আলোচ্য কণ্ঠস্বর তাঁর নয়। বরং তাঁর বক্তব্য, “ওই কণ্ঠস্বর আমার। আমি তো অস্বীকার করিনি যে আমার কণ্ঠস্বর নয়। তাহলে নতুন করে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন কোথায়?” এই যুক্তির ভিত্তিতেই আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সিআইডির দাবি, তদন্তের স্বার্থে বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই নিম্ন আদালতের নির্দেশ অনুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে আরেকটি মামলাও আলোচনায় রয়েছে। সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভাবনীভবনে সিআইডির দফতরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে একই দিনে দুটি পৃথক আইনি ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

এখন নজর আগামী সোমবারের হাইকোর্টের শুনানির দিকে। আদালত কী নির্দেশ দেয় এবং কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া আদৌ স্থগিত হয় কি না, তার উপরই নির্ভর করবে এই মামলার পরবর্তী গতিপথ।